Archive for the ‘Stress’ Category

 

Jodi 01

হোটেল উর্বশীর পাশ দিয়ে গলিটা ধরে সোজা গঙ্গায় নেমে যাওয়ার রাস্তা দিন তিনেক আগেই খুঁজে পেয়েছিলাম। একটা বাঙ্গালি আছে, মানে একটা নয়, অনেকই আছে, তবে আমি বলছি বাঙ্গালি চায়ের দোকানের কথা, মধু নাম লোকটার। হৃষীকেশে আসার পরের দিনেই সকালবেলা দেখা। কথা বলতে বলতেই বুঝলাম, মানে সে বুঝল যে আমি বাঙ্গালি। অবশ্য আজ এই পঁয়ষট্টি হবো হবো বয়েসে ভারতের এগারোটা রাজ্যে কাজ করার পরেও আমার সঙ্গে কথা বলার পরে কেউ একটু সুযোগ পেলেই এটা জিজ্ঞেস করতে ছাড়েনি যে, আপনি বাঙ্গালি! আজব ব্যাপার, এতদিন, মানে প্রায় চল্লিশ বছর বাইরে কাটিয়েও আমার কথা শুনে নাকি দিব্য বোঝা যায় এই মালটা আলুপোস্ত ডাল ভাত ছাড়া বোঝে না। অবিশ্যি তাতে আমার খুব একটা কিছু যায় আসে না। তা যা বলছিলাম, তো সেই মধুর দোকানে এক কাপ গরম গঙ্গাজল, যেটাকে ও এখানে চা বলে দিব্য চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা খেয়ে ঘণ্টা খানেক চক্কর মেরে দেখে আসি দেশি বিদেশিগুলো কেমন সব শরীর চর্চা করছে সক্কালসক্কাল। বলতে গেলে এটা আমার ফ্রিতে চৌকিদারি আরকি! ওরাও আমাকে পাত্তা দেয়না, আমিও মোটেই পাত্তা খুঁজি না। উর্বশী হোটেলের পাশের রাস্তাটা আমাকে মধুই বলেছিল। মধু লোকটা বেশ অদ্ভুত। মধ্য বয়েসি লোক, হৃষীকেশে চা বেচছে প্রায় দশ বছর। আস্তে আস্তে এখানেই সব গুছিয়ে নিয়েছে। নিজে থেকেই কথা বলে, নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। এই যেমন আজই সকালে এরকম একটা ঘটনা হল, জানেন কাকা, আজকাল এই বিদেশীদের চক্করে ড্রাগের ব্যেবসা খুব বেড়ে গেছে, আসবে সব যোগের নামে, তারপর এখানে ওখানে ব্যোম ভোলে বলে শুয়ে পরবে এর ওর সাথে, ওদের দেশে তো এইসবই চলে। একদিন সকালে দেখি আমার দোকানের সামনে শুয়ে আছে, গায়ে কাপড় চোপর নেই বল্লেই চলে, কিন্তু বিদেশি, কিছু বলার নেই, হই হই করে ঘুম থেকে তুলে এক কাপ চা খাইয়ে বিদায় করলাম। চা খাবে কি, মুখ দিয়ে তখনও নেশার ঘোর কাটেনি। পুলিশও সব জানে, কিন্তু কারুর কিসসু করার নাই, অতিথি দেবো ভব। আমার চা খাওয়া শেষ হলে, আমিও উঠে পড়ি।

এইবার নিয়ে চার বছর হল, আমি, মানে আমরা প্রত্যেক শীতের সময় এখানে এসে দিন দশেক কাটিয়ে যাই। স্ত্রীটি আমার শীতকাতুরে, সে সক্কাল সক্কাল বেরোতে চায়না, আর আমার আবার সকাল হলে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে ইচ্ছে করেনা। গতবছরে এখানেই একটা হোটেলের সঙ্গে বন্দোবস্ত করে নিয়েছি বছরে দশদিন থাকবো বলে, সে ব্যাটাও বাঙ্গালি, তাই বুড়ো-বুড়ীকে হই হই করে স্বাগতম করে। আর এমনিতেও শীতকালে দিল্লির ঠাণ্ডাতে কাঁপতে থাকা জনতা খুব একটা এদিকে আসে না, খালি খালি থাকে বেশ সব কিছু। আমি সেই সকালবেলা একটা জ্যাকেট, একটা শাল আর একটা লাঠি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি বিদেশীদের কসরত দেখতে। স্বদেশি খুব একটা দেখা যায় না সকালে, বিকেল থেকেই তাদের সময় শুরু হয়, চানাচুর, মাংশ আর রামের বোতল নিয়ে বসে পড়ে ঘরের মধ্যে। আমিও গিলি, কিন্তু আমার আবার রামে ভক্তি কম, তাই সাহেবি বোতল নিয়ে গত ত্রিশ বছরের মত আজও মৌনব্রত নিয়ে বসে বসে টিভি দেখি। আমার স্ত্রী তখন হয় মোবাইলে, নয়তো একটা বই নিয়ে বসে থাকে। সত্যি, এটা একটা মজার ব্যেপার, আমাদের কথা বার্তা মোটামুটি বিয়ের দু-বছরের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিলো, তারপরের তিন বছর চেষ্টা চলেছে কথা খুঁজে বের করার, কিন্তু পাওয়া যায়নি, যেমন আমার নতুন কিছু কথা আসেনি, তারও তেমনই। আমাদের ছেলেপুলেও নেই যে তার সংসারের বেগুন আলু মুলোতে নিজের মাথা লাগাবো, তাই একদম সুন্দরভাবে দুজনে মিলেই একটাই ঘরের ভিতর একসঙ্গে যে যার মতন জীবন কাটাচ্ছি।

মোবাইল ব্যাপারটা আমার ঠিক ধাতে আসে না, আমি বরং কম্পিউটারে বেশ সড়গড়। আমার বউ এর উলটোটা, সে মোটামুটি কাজের লোককেও পারলে মোবাইলে লিখে নির্দেশ দেয়। বাইরের লোকের সঙ্গে কথা কমাতে কমাতে এখন আর তেমন আমাদের খোঁজ খবর রাখারও কেউ নেই, আমরাও আজকাল আর তেমন খোঁজ খবর খুব একটা রাখিনা দেশদুনিয়ার। কোথায় কার বাড়ি লাউএর ঝোল রান্না হয়েছে আর কার ছেলে মেয়ে আমেরিকা গিয়ে বকফুলের বড়া বানিয়ে খেয়েছে বা কার নাতি বেঙ্গলি তে কথা বলতেই পারে না, এইসব শোনার বা শুনে বেশ একটা বিজ্ঞ বিজ্ঞ মন্তব্য করার দরকার পড়ে না। সাতে নেই, পাঁচে নেই, বউ এর সঙ্গেই পঁয়ত্রিশ বছরের বিবাহিত জীবনের মধ্যে গত ত্রিশ বছরে মেরেকেটে ত্রিশটা কথা, যেটা কিনা এখনও মনে আছে, বলেছি কিনা সন্দেহ। চুটিয়ে চাকরি করেছি, প্রচুর জায়গা ঘুরেছি কিছুটা বেড়ানোর তাগিদে, কিছুটা চাকরির জন্যে আর সত্যি বলতে লজ্জা নেই, বাকিটা লোক দেখাতে। হ্যাঁ, মিস্টার মিত্তির চললেন অস্ট্রেলিয়া, তো পরেরবার আমাকেও একটা নিউজিল্যান্ড ভ্রমন করতেই হবে! তবে এইসব করেও বিন্দাস চালিয়ে গেছি জীবন।

ভাল একটা চাকরি ছিল, বেসরকারি কিন্তু ভাল মাইনে। জীবনের প্রথম তিন বছর খুব কম টাকায় চাকরি করেছি, তারপরে সবই বেশ মোটা মাইনের। প্রথমের দিকে জমানোর টাকা থাকতো না, পরের দিকে কিছুদিন জমানোর পরে বুঝলাম এর কোন মানেই হয়না, কিন্তু তাহলেও বেশ কিছু টাকা জমে যেত, তার একটা বড় কারন যদিও আমাদের ছেলেপুলে না থাকা, হাসপাতালের খরচা নেই, পড়ানর খরচা নেই, আবদার মেটানোরও দরকার নেই, তাই বাষট্টি বছরের পরেও যখন দ্বিতীয় বারের জন্যে আমার কন্ট্রাক্ট আরও দুবছর বাড়ানোর কথা উঠল বোর্ডের মীটিঙে, আমি সোজাসুজি না বলে দিলাম। সাদা জামা, কাল প্যান্ট আর চকচকে জুতোর জীবন অনেক হয়েছে, এবার মরার আগে ঢিলে পাজামা আর তার উপরে আরও ঢিলে কুর্তা পরে কটা দিন একটু আরামে কাটাতে চাই। কিন্তু এটারও একটা সমস্যা আছে, একরকমের জীবন ছেড়ে পরেরদিনই অন্য জীবনে ফেরা কিন্তু খুব সহজ হয়না, কিন্তু কপাল ভাল আমার, আমি প্রথমদিন থেকেই একেবারে স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠলাম। তারপর থেকে শীতকালে দশদিনের জন্যে হৃষীকেশ, গরমকালে দশদিনের জন্যে দার্জিলিংটা আমি বা আমরা মোটামুটি ঠিক করেই রেখেছি। বর্ষাকালে আমাদের বিবাহবার্ষিকী, তাই বর্ষাকালে কোথাও যাওয়াটা আমাদের দুজনের একটা মীটিঙের পরে ঠিক হয়। আমার পছন্দ আমার স্ত্রীর পছন্দ হয়না, আবার আমার তাঁর পছন্দ পোষায়না, কিন্তু বেড়ানোর তাগিদে দুজনেই দুজনের অপছন্দটা সহ্য করে এগিয়ে চলি, যেভাবে চলেছি এতটা পথ। এইবার গেছিলাম শ্রীলঙ্কা।

যাইহোক, মধুর দোকানে ফেরা যাক, যেহেতু কম কথা বলে অভ্যেস হয়ে গেছে, আর এদিকে বয়েসটাও বেড়েছে অনেকটাই, তাই একটা কথা লিখতে গেলেই অনেক কথা চলে আসে। মধুই বলেছিল পাশের একটা গলি দেখিয়ে, ওটা দিয়ে গেলে একটা ঢাল পড়বে, আর সেটা দিয়ে নেমে গেলেই নাকি গঙ্গা। গত তিনদিন ধরে এই রাস্তাটাই ফলো করছি। সকালবেলা দারুন ঠাণ্ডা একটা হাওয়া দেয়, মাফলারটা ভাল করে জড়িয়ে সেটা দিয়েই নেমে যাই।

শুক্রবার, সকালের দিকে ভিড় একেবারেই থাকেনা, বিকেলের থেকে অল্প অল্প করে লোক বাড়ে, সবই পরিযায়ী পাখি, তীর্থের নামে মদ গিলতে আসে, আমার মতই ভণ্ডের দল আর এইজন্যেই আমার ভাল লাগে এই হৃষীকেশ। এখানে তীর্থ আছে, রাতেরবেলা বাইজী নাচের কাছাকাছি মোচ্ছব আছে, বেওসা আছে আর খোঁজ করলে বেশ্যাও নিশ্চয় পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। লোকে এখানে যোগা করে, রাতেরবেলা ভোগা করে। সব থেকে ভাল লাগে এটা দেখে যে এইসব কিছুই কেমন একটা ঘোমটার আড়ালে। এখানে তীর্থও হয় অন্যরকমভাবে। মানে যদিও এটা হরিদ্বারের উপরে, কিন্তু তীর্থ-গুরুত্বের মাপকাঠিতে কম, আবার এখান থেকে আরও উপরে উঠে গেলে দেবপ্রয়াগ, তারও উপরে কেদারনাথ, বদ্রিনাথ। অর্থাৎ ঠিক মাঝামাঝি একটা গুরুত্ব নিয়ে সমতল আর পাহাড়ের মাঝামাঝি জায়গায় থেকে যোগা থেকে ভোগা উপহার দিচ্ছে এই জায়গা। এখানে অনেকবছর আগে বিটলস এর লোকেরা এসেছিল আত্মানুসন্ধান করতে, এখানেই সেই বিখ্যাত নীলকণ্ঠমুনির মন্দির, আবার এখানেই প্রত্যেক গঙ্গার ঘাটে লুকিয়ে গাঞ্জা আর শহর থেকে ছুটি নিয়ে সময় কাটাতে আসা তরুন তরুণীর মিলনের জায়গা। এখানে কিছু দোকানে মাছ মাংশ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকাশ্যে নয়, বলে রাখলে দু-তিন ঘণ্টা পরে পাওয়া যাবে। রামঝুলা আর লক্ষ্মণঝুলার মধ্যে কোনটা বড়, তা নিয়ে তর্কের অবকাশ না থাকলেও কোন যোগে শরীরের কোন জায়গার ঠিক কতটা উপকার হবে, তা নিয়ে প্রচুর লোকের প্রচুর তর্ক প্রত্যেকটা দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে, আর তাদের কথা অনুযায়ী তাদের পদ্ধতিটাই সব থেকে ভাল। আমি অবিশ্যি আমার পদ্ধতিতেই চলি।

আমি যাওয়ার সময় এইসব ভাবতে ভাবতে মধুর দোকানে এক কাপ চা খাই, তারপরে ঠিক একটি ঘণ্টা হাঁটি, মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায়, ফুসফুসটাও কেমন একটা দম পায়, তারপরে ফেরার সময়ে আরেক কাপ চা গিলে আয়েশ করে কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হোটেলে ফিরে আসি। গত কয়েকদিন ধরে বুকের বাঁদিকে একটা চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে, আর বয়েসটা এমনই যে কিছু হলেই মনে হয় কিছু হয়ে যাবে। এমনিতে কিছু হয়ে গেলে তাতে আপত্ত্যি বেশি কিছু নেই, কিন্তু না বলে কিছু হয়ে গেলে নিজেরই হয়ত একটু খারাপ লাগবে।

সে যাই হোক, আজ সকালের দিকে একটা ঘটনা ঘটেছে, আমি ফিরছিলাম ত্রিমূর্তি গুরু দত্ত আশ্রমের পাশ দিয়ে, হঠাৎ করে মনে হল একটা চেনা ছায়া পাশ দিয়ে চলে গেল। তবে চেনা বলা ভুল, অন্তত আজ চল্লিশ বছর পরে তাকে চিনে ফেলার প্রশ্নই আসেনা, কিন্তু কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে যায় যে চমকে উঠতে হয়, আর সেই ঘটনার ঘোর কাটাতে সময় লাগে।

বয়েস বাড়ার পরে একটা জিনিস বুঝতে পারি, জীবনে যা কিছু ঘটে, সব কিছু ঘটতে দেওয়াই ভাল। ভাল জিনিস হয়ত তেমন মনে থাকেনা, কিন্তু দুষ্টুমি, বা যত বাজেকাজ, সব ঠিক মনে থেকে যায়, আর কখনো কখনো নিজের অবচেতনেই নিজেরাই হাসতে পারি, বা হয়ত মনে করে ভাবতে পারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আমার মনে পড়েনা আমি জীবনে কতবার প্রথম হয়েছি স্কুলের পরীক্ষায়, কিন্তু এটা ঠিক মনে আছে যে প্রথমদিনেই আমাকে কান ধরে দাঁড়াতে হয়েছিল।

মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট বয়েসের প্রমান ছাড়া আর কোন কাজে লাগেনি পরবর্তীকালে, কিন্তু সার্টিফিকেট আনার সময়টা মনে আছে, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ভাবছিলাম অন্যস্কুলে ভর্তির ফর্ম তুলবো কারন সমীরণের বান্ধবী আমাদের স্কুলে নয়, ভর্তি হবে নাকি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্কুলে। তারপরে যদিও সে দরকার পরেনি, কারণ সায়নি আমাদের স্কুলেই ভর্তি হয়েছিল আর সমীরণের জীবনের প্রচুর ব্যাথার সঙ্গে আরও একটি ব্যাথা যোগ করে চলে গিয়েছিলো অনেকদুরে, যে দূর থেকে আর কখনও ফেরা যায়না।

টানা তিনমাস সমীরণ আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেনি, যতক্ষণনা তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিতে মালবিকার আবির্ভাব ঘটে। মালবিকার আবির্ভাবের পরে টানা ছয়মাস আমাদেরও দরকার পড়েনি, যতক্ষণনা সায়নি সমীরণকে ছেড়ে সময় কাটাতে শুরু করে সৌম্যের সাথে আর সমীরণ আবার নিজেকে আমাদের দলে সমর্পণ করে। সমীরণের ঠিক কতগুলি প্রেম ঘটেছিল, সেটা ও কলেজের থার্ড ইয়ার থেকেই মোটামুটি ভুলে যেত, তবে তখনই কম করে হাফ ডজনের থেকে কম ছিলনা, আর প্রেম যখন ছিল, তখন ব্যাথাও ছিল, আর ব্যাথাও যখন ছিল, তাই আমাদেরও দরকার ভালমতই ছিল, আর সমীরণ আমাদের এত ভাল বন্ধু ছিল যে তাঁর ব্যাথা মানে আমাদের সাহারা মরুভুমির মধ্যেও মউসিনরামের উদয় ছিল প্রায় দ্বিমাসিক ঘটনা। সমীরণের একটা করে ব্যাথা বাড়বে, আর সেটা ভোলার জন্যে সবার আগে আমাদের জমায়েত হত ছউঘুপির মাঠে, তারপরে প্রচুর সিগারেটের সাথে আমরা সব ফেলু মিত্তিরের মত ঘটনার কারন অনুসন্ধানে ব্যাস্ত হয়ে পরতাম আর সেই সুযোগে সমীরণ আবার অন্য কাউকে তাঁর চোখের জল মোছানোর সঙ্গী বানিয়ে নিত। পরের দিকে আমরা আমাদের এই কাজের নাম দিয়েছিলাম পর-বিবাহ-নর্তকী, মানে নিজেদের যেন বিয়ে হওয়ার নয়, তাই অন্যের বিয়েতেই নেচে আসি, সোজা কথায়, বান্ধবীর খোঁজের দরকার নেই, সমীরণের গণ্ডাখানেক বান্ধবীদের নিয়ে চর্চাতেই ব্যাস্ত ছিলাম।

সেই সমীরণের সাথেই আমার বন্ধুত্বটা শেষ হয়ে গেছিলো ওরই এক সম্পর্কের টানাপড়েনে। কলেজের পড়া শেষ করে আমি তখন সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি, নকশাল আমলের লড়াইতে আমাদের সেভাবে পরতে হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক টানাপড়েন দেখা হয়েগেছে, কংগ্রেসের যুগ শেষ হয়ে লাল সেলামের আমলে আমাদের সব থেকে বড় সঙ্গী ছিল রাজনৈতিক চেতনা, মনে হত, মার্ক্স আর এঙ্গেলের সাথে আমাদেরও দেশে আস্তে আস্তে সমাজবিপ্লবের বন্যা বয়ে যাবে, আমাদের দেশেও প্রত্যেকটা মানুষ খেতে পাবে, রাতে শোয়ার জন্যে পাবে একটা ছাত, আর কোন শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে মরবে না, আর ভিয়েতনামের লোকেরা আমার আপনজন, আমার নিজের ভাইয়ের থেকেও আপন। রাষ্ট্রে ইন্দিরা গান্ধী, কখনও জোট সরকার, বাংলায় স্লোগান তুলতাম, তোমার নাম আমার নাম, আমার দেশ ভিয়েতনাম, বা কখনও, এ স্বাধীনতা ঝুটা হে, কিন্তু এভাবেই আস্তে আস্তে নিজের একটা পরিচিতি তৈরি হয়ে গেছিলো। লোকে জানত আমাকে বামপন্থী হিসেবে। আর বামপন্থার পুরস্কার পেলাম একটা চাকরি। যে কোম্পানিতে চাকরি পেলাম, সেখানেই ছিল সমীরণের দ্বিতীয় প্রেম মালবিকা। রোজই একসাথে যাতায়াত, একসাথে কাজ করার সুবাদে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম মালবিকার সাথে। তবে তখনকার ঘনিষ্ঠতা এখনকার মত চুমু দিয়ে শুরু হত না। ঠিক মনে নেই, কিন্তু চুমুতে পৌঁছতে একবছরের বেশি সময় লেগেছিল। শহরতলীর ছেলে আমি, আর আমাদের বন্ধুত্বের একটা ঘনিষ্ঠ দল ছিল। আমরা ছয়জন ছিলাম খুবই কাছের, আর তাতে অতি অবশ্যই সমীরণ ছিল। বন্ধুদের মধ্যে আমার সম্পর্কের কথা পৌঁছতে দেরি হল না, ছউঘুপির মাঠে সবার সামনে আমাকে আমাদের বন্ধুত্বের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হল, আর কি করে জানিনা সবার মধ্যেই আমাকে নিয়ে, আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠে গেল, আর সেদিন সন্ধ্যেবেলায় যখন আমরা আমাদের সাইকেল নিয়ে উঠলাম, আমি বুঝতে পারলাম, ওরা আর কেউ আমার বন্ধু নয়, আমি আর দরকারি নই তাদের কাছে!

আমিও আর যাইনি বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে তাদের কাছে, মালবিকার সঙ্গে সম্পর্কটা হারিয়ে গেল পারিবারিক টানাপড়েনে। মালবিকার বাবা পাত্র খুঁজে আনলেন আর আমাদের সম্পর্কের পূর্ণতা দাবি করার আগেই বিয়ে হয়ে গেল তার। সেই ঘটনার পরে চল্লিশ বছর কেটে গেছে। আমি চাকরি নিয়ে চলে যাই দিল্লী। তারপরে আস্তে আস্তে পদোন্নতি, নিজেরও বিয়ে। মন থেকে মালবিকা মুছেই গেছিলো, বা মাঝেও খুব একটা কিছু মনেও পড়েনি, সমীরণের হয়তো দ্বিতীয় প্রেম ছিল, কিন্তু আমার প্রথম প্রেম কিন্তু মালবিকাই। তাহলেও আমার এইসব ঠুনকো অনুভবের বড়ই অভাব, তাই যেদিন মালবিকা ছেড়ে চলে গেছে, সেদিন থেকে আমিও আর তার দিকে তাকাইনি, না, সমীরণ বা অন্য কারও কাছেও আবার বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে ফেরত যাইনি। যে পথ চলে গেছে, আমি সেই পথেই চলতে পছন্দ করি।

কিন্তু আজ হঠাৎ কি হল জানি না, সেই সবজে রঙের শাড়িপড়া, কাঁচাপাকা চুলের চেনা ছায়াটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে। আমি আবার সেই রাস্তা ধরলাম, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই ফিরে এসেছি, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই হয়তো আমার চেনা ছায়া এগিয়ে গেছে উলটোদিকে। মহীপালের রুদ্রাক্ষের দোকানটা পার হতেই চোখে পরে গেল সেই মুখ, সে মুখ ভোলার নয়, চেনা ছায়া সত্যিই আমার চেনা, অন্তত কখনও চেনা ছিল। সঙ্গের ভদ্রলোকটিকে নিয়ে মধুর দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা খাচ্ছে। আমাকে এগোতে গেলে তাদের পেরিয়ে যেতে হয়, পিছতে গেলে কেমন একটু অদ্ভুত লাগে, কিন্তু কিছু করার নেই, বয়েসের সাথে নিজের পা’ও কেমন অনিশ্চয়তায় ভুগছে, আমি বোধয় তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকেই, তখনই আমার দিকেই চোখ পড়লো ওর, আর তখনই আমার পায়ে সাড় ফিরে এলো, আমি হঠাৎ কিছু মনে পড়েছে ভাব করে ফেরার রাস্তা নিলাম, ঠিক বুঝতে পারলাম না আমাকে চিনেছে কিনা বা তার চোখে মুখে কিছু ভাবান্তর হল কিনা, বা দূর থেকে ঠাহর করতে পারলামনা কোন দীর্ঘশ্বাস পড়লো কিনা।

 

Debraj

(Pic Courtesy:Google)

27.06.2018

Mumbai

Advertisements

stickers-a-styleAaah…finally back on this page, this site. Nope, i didnt find anything to write since i last wrote something and right now also i dont have anything to mention and whats more, i doubt tomorrow i will get something to write too but still thought of playing with Keyboards. SOmetime it helps, when you know you have nothing to do but still you breathe as it happens under automatic process, likewise, when one got nothing to do and really submerged in to a deep hole knowing no way out of the darkness, can let the fingers run ‘automatically’ on the keyboard. i am exactly doing the same, i am not caring about the grammar, dont have anything in mind, oops, i have a lot of things in mind and actually having trouble to channelize it.

Anyway, lets not talk much, sorry write much, only will share a few good thoughts came in my mind,

  1. Need not to do good to anyone, just done do bad to anyone, better you don’t do anything for anyone
  2. Even most precious metals, stones are invisible in darkness, consider yourself to be the valuable one and blame darkness for not being recognized
  3. ‘Fuck’ is more powerful to calm you down than uttering “Om” sometimes, and most of the times you can say it in-front of anyone and that also adds value to your personality
  4. And lastly, if you seriously say, Fuck, ensure even last sec of hardness is not wasted

Thanks

May come some other time with some better ideas and yes, may be with some good mood to write another trash.

05.06.2018

Mumbai

Probably after long one month, I finally got some time to spend with myself. Honestly this new job is really checking my capacity to handle stress, tension, work load everything. Everyday morning, I wake up at 7 am, then immediately after waking up, I rush to washroom, get ready, prepare breakfast while getting ready, pack it in lunch box, put it in a bag, arrange my office bag, take car key and start rushing in the Mumbai traffic. Then try not to honk at any point of time on the way to my office putting FM on high pitch and reach my office after travelling 43 km in 1 hour, if lucky, park my car outside office in open parking area, assemble by trouser, take the laptop bag in shoulder, lunch box in other hand start running for lift. Then the permutation combination phase, which life will come fast and probability of getting in is higher as there is no queue in front of life. After participating in that race, I reach office with a smiling face enjoying good morning wish by my sub-ordinates and finally settle, better say leave my ass to settle on a cushy mushy chair. Office boy brings a glass of water and then a hot coffee. The moment I open my laptop and start checking mails in outlook and newspaper in google chrome, intercom rings, hey man, good morning, can you please come for 1 minute? Sometime I think of replying, no sir, I can’t come, but I can’t because at this point of time, I am not having any back up job in my hand and I have a wife, I have a social status, I have a bunch of friends, I have handful of well-wishers and a bunch of bad wishers as well around me who may forget to shit in the morning but never forget to keep their watchful eyes on me. So I can’t just type a letter and throw that on my boss saying, fuck off! Hey, come on, don’t get me wrong, I am not at all frustrated with my job. Actually I enjoy working whole day, attend meetings, taking decisions, make fun of any small funny incidents and take charge of a whole bundle of deliverable. Anyway, I work whole day till evening, may be by 7 pm, I log off and again take my car key to jump in to the battle of returning home. In evening, I usually take long 2 hours to reach at home. So I reach around 9 pm every day, feel blessed when my wife offers me cooked food. O yes, sometime, I take a peg of whiskey and act like drunk to forget all the shit I did whole day including travelling to office and returning back and then enjoy my dinner while watching TV. Then I go to sleep.

So that my daily ordeal. I just don’t do anything apart from the above mentioned schedule. I may take 30 min more in one activity than other but overall the story is same.

Ok now, I guess you are much tired of reading my boring story because I guess you also got almost same like mine. Then let me tell you another story, funny is this is not funny and I assure, your story matches mine and for obvious reason my story matches exactly with yours. To be honest, we everyone have same story in life and still we try to extract thrill out of it. You earn, you socialize, you take responsibilities both at home and at work place, in both place you get bare minimum hike in your salary as well as importance at your home. You earn, you spend, sometime for yourself and most of the time for others only to remain included in that circle but most of the time you end up with getting criticized for what you haven’t done at all, still you smile, keep yourself busy in aspiring more and more with a dream of achieving everything in life as soon as possible hoping there is a world, where everything you do is appreciated without any miss and you continue living. You earn, you fight to streamline what is not in order. With your hard work, dedication, you reach closest to that place and find out while concentrating on one thing, you missed another thing. You again try to assemble that. Your job is never finished.

Hey cool, no need to thank me, we all are co-traveler in same boat. We will never reach our destination and please don’t get frustrated for that. Let’s keep trying.

Sougata

24.05.2017

bermudaভাবা আর করার মধ্যে যতটুকু গ্যাপ লোকের থাকে, আমার তার থেকে একটু হলেও বেশি থাকে, আমি বাপু ভাবতে ভালবাসি, করতে মোটেই ভালবাসিনা আর ভাবনা লিখে ওঠার কথা মাঝে মাঝে ভাবতে ভাবতে আমি আবার ভাবতে বসে যাই। কিন্তু আজ আমি ঠিক করেছি লিখবো, জম্পেশ একটা ভাবনার কথাই লিখবো, সেটা লিখতে গিয়ে আমার ঘুম এসে গেলেও আমি লিখবো, আর লিখতে লিখতে আরও বেশি ভাবনা এসে গেলে সেগুলোকেও আধপেটা করে পিটিয়ে টুপটাপ লিখে ফেলবো। লেখার আগে আমার লেখার কায়দা কানুনগুলো একটু ঠিকঠাক করে নিতে হয়, তার মধ্যে প্রথম হল দরজা জানলা বন্ধ করা, দ্বিতীয় হল ল্যাপটপে সবকটা শপিং সাইট বন্ধ করা, তারপরে তিনটি গুনে গুনে সিগারেট বাবার প্যাকেট থেকে ঝেড়ে খাটের তলায় লুকিয়ে ফেলা। এইসব হয়ে গেলে আসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, খানিকক্ষণ ভাবলাম সেটা লেখা ঠিক হবে কিনা, কিন্তু ঠিক ভুল ভাবতে বসলে আমি আবার ভাবতেই থাকব, লেখা আর আমার দ্বারা আজ হচ্ছে না। হ্যাঁ, সোজা-সাপটা বলে দি, আমি অন্তর্বাস পরে লিখতে পারিনা, তাই সবার আগে সেটা ত্যাগ করি, তারপরে বাবার অনেক পুরনো একটা জ্যেলজ্যেলে ফতুয়া আছে, সেটা গলিয়ে নি, আর নীচে অপুর বারমুডা।

এবার প্রশ্ন আসবে, অপুটা কে? ঠিক আছে, উত্তর দিচ্ছি, অপু আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড। আর হ্যাঁ, অপু নামটা মোটেই আসল নয়, নকল লেখার একটা সুযোগ আমি ছাড়লাম না, কিন্তু এই একটিই। হ্যাঁ টা যা বলছিলাম, মানে ভাবছিলাম, বারমুডাটা সবুজ রঙের, উপরে গাড়ীর ছোপ ছোপ করা, বেশ পুরনো, সামনের দিকে একটা চেন আছে, আর অপুর যেটা হাঁটুর উপর অব্দি হোতো, সেটা আমার থ্রি-কোয়ার্টার হয়ে গেছে। হথাত মনে হল, আজকের ভাবনাটা এই বারমুডা নিয়ে লিখে দিব্যি চালিয়ে দেওয়া যায়। বেশ ভাবাও যাবে আর সঙ্গে লেখাও যাবে, আর অপু এবং তার বারমুডার ইতিহাসটা নেহাতই সাদামাটা নয়। হ্যাঁ, তাহলে এইবার ভাটের বকবক বন্ধ করে কিছু লেখা যাক।

ওকে, কীভাবে লিখবো? অ্যানা ফ্রাঙ্কের মতো বারমুডাকে চিঠি লেখা যেতে পারে, বা নেহাতই অপুকেই একটা চিঠি, শুরুটা হবে এইভাবে, “প্রিয় অপু, তুমি ভাবিতেই পারো নাই আমার হস্তে আবার এই পত্রখানা পাইবে, কিন্তু আজিকার দিবসে সকাল হইতে রোদ্দুর মাখিয়া, তোমার বারমুডা পরিয়া গায়ে হাতে পায়ে তেল মাখিয়া মনে হইতে ছিল এরকম সুন্দর একখানি সুন্দর দিবস তোমার সঙ্গেও কাটাইতে পারিতাম…”, মাফ করিবেন, মানে নিজেই নিজেকে করলাম আর কি, যা তা লেবেলের কাব্যি হয়ে যাচ্ছিলো, মানে বারমুডা পরে তেল মাথার কথা অব্দি তাও ঠিক ছিল, কিন্তু সেটা অপুকে সঙ্গে করে! এটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছিলো।

ঠিক আছে, আপাতত এটা বোঝা গেলো, বারমুডার আসল মালিককে চিঠি লেখা যাবে না, সোজাসুজি বারমুডাকেও চিঠি লেখাটা আমার অসামান্য লেখক প্রতিভার ক্ষমতার একশত কোটি ক্রোশ দূরে। তাহলে!

ইউরেকা, ইউরেকা…না, আমি এখুনি এই পোশাকে দৌড়ে গিয়ে বাথটবে নামতে যাচ্ছি না, কারনটা সিম্পেল, আহা কারনের দরকার নেই জানি, সবাই বারমুডা নিয়ে গল্প পড়তে বসে আমার ইউরেকার গল্প শুনতে চাইছ না, কিন্তু কিছু করার নেই, আমি বাপু স্বভাব লেখক, ভাবনার দাস বলতে পারো, একটু সব জিনিস নিয়ে না  ঠিক জমে না, আর না পড়তে ইচ্ছে করলে কেউ মাথার দিব্যি দেয়নি যে পড়তেই হবে, ভাগ বোকা ছেলে! (BC, এটার পরে একটা স্মাইলি দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল!)। আসলে তেল মাখার কথা ভাবা আর বাথটবে না যাওয়ার কারনটা সহজ, এখন শীতকাল, আর আমি দিব্যি দুতিনদিন তিন চারবার করে পারফিয়ুম লাগিয়ে গন্ধ স্নান করতে পারি।

ফেরত এসো বারমুডাতে, তোমাদের না আসলেও চলবে, আর সত্যি বলতে কি আমি ডাকিওনি, গল্পে ফেরত আসতে বললাম।

অপু আর আমি খুব ভালো বন্ধু ছিলাম, এতটাই ভালো যে আমরা একসাথে প্রচুর সময় কাটাতাম, ও আমার বাড়িতে বা আমি ওর বাড়িতে, সেই ক্লাস এইট থেকে, না না, অমলকান্তির গল্প লিখতে বসছি না, প্রমিস! আমাদের ইংরিজির টিচার ছিলেন ধিরেনবাবু, হ্যাঁ, তখন ডি. এম. এর মতো শর্ট বলতে শিখিনি, তো আমরা মোটামুটি একসাথে পড়তাম, একসাথে লিখতাম, একসাথে সময় সুযোগ হলে খেতাম, ক্লাস পালিয়ে গঙ্গার ধারেও গেছি, অবশ্য তখন কলেজে পড়ি। আমাদের বাড়ির লোকের ধারণা ছিল এরা প্রচণ্ড ভালো বন্ধু, আমরাও তাই জানতাম। আমাদের বন্ধুরা বলতো, তোদের তো আলাদা করাই যায়না রে! সত্যি বিন্দাস বন্ধু ছিলাম। আমার আর অপুর দুজনেরই দুটো সাইকেল ছিল, সেটা করে আমরা স্কুলে যেতাম, পড়তে যেতাম আর মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে গঙ্গার ধারে। সত্যি গঙ্গার ধারে যেতে আমার দারুন লাগতো, হয়তো এখনও লাগে। আমি পড়তাম টি শার্ট আর জিন্স, আর অপু ওর বিখ্যাত বারমুডা…সবুজ রঙের, গাড়ীর ছোপ ছোপ। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন মশাই, সেই বারমুডাটি, যেটি বর্তমানে আমি পড়ে আছি। সব থেকে মজার কথা, অপু ক্লাস সেভেন পর্যন্ত নাকি জাঙ্গিয়া পড়তো না, আহা কি সুখের জীবন ছিল ওর! আমাকে তো বোধহয় জন্মই দেওয়া হয়েছিলো ওইসব পড়িয়ে, থাক সেসব কথা, ভাওনাও মে বেহে জানা মেরি গন্দি আদত হে!

একবারের গল্প বলি, তখন আমি কলেজে পড়ি, সক্কাল সক্কাল অপুর ফোন, আজ কলেজ যাবো না, আজ যাবো গঙ্গার পাড়ে, একটা নাটকের গল্প বেশ মনে ধরেছে, কাল সারারাত ঘুমোইনি, ভিক্টোরিয়া জেগে যাবেন বলে তোকে বলা হয়নি, তুই আজ কালটি মেরে দে, চল আমার সঙ্গে, তোকে পুরোটা না বললে শান্তি হচ্ছেনা। আহা, ভিক্টোরিয়া আমি নই, আমার পরম শ্রধ্যেয় মাতৃদেবী, আর অপুর কথা মানে আমার কাছে আদেশ, অমান্য করলেই তিনি নিজে সক্কাল সক্কাল আমার বাড়িতে এসে হাজির হবেন নাটক শোনাতে, সেটা বেশ বিরক্তিকর ব্যাপার। অতএব…

আমি বেশ সেজেগুজে…হ্যাঁ আমি সাজতে ভালোবাসি, নীল রঙের জামার সাথে, পিঙ্ক রঙের নেলপালিশ সুতপা মেনেজ করতে পারে, আমি পারি না। তো যা বলছিলাম, আমি বেশ সেজেগুজে, যতটা কলেজের জন্যে করা যায় আর কি, হাজির হলাম সেক্সপিয়ারের আসরে, সকাল দশটা, আমি স্টেশন পেরিয়ে সাইকেল নিয়ে, পিছনের কেরিয়ারে ব্যাগ আটকে চলেছি গঙ্গার ধারে।

অপু আগেই পৌঁছে গেছিলো, আমাকে জীবনের চরমতম আশ্চর্য করে ওর বিখ্যাত সবুজ রঙের বারমুডা আর তার উপরে গাড়ীর ছোপ ছোপ বারমুডা পড়ে। জীবনে খুব কমই অবাক হয়েছি, যে কয়েকবার হয়েছি, তার মধ্যে এটা একটা! আমি বললাম, তুই এটা পড়ে কলেজ যেতিস? অম্লানবদনে জবাব এলো, এক্কেবারে খেয়াল করিনি গুরু, আজ বাবা আমায় পেদিয়ে পোদ্দার করে দেবে। দুর্ভাগ্যবশত, ওর পদবি পোদ্দার!

দুর্ভাগ্য কিন্তু অপুর সঙ্গ সঙ্গেই ছিল। আসা যাক সেই গল্পে, আহা ভাবনা তো একটা জ্যান্ত প্রাণী নাকি! সেও তো আমারই মতন চলতে ফিরতে পারে! আমার দাদার বিয়ে, অবধারিতভাবে অনিমন্ত্রিত কাঁঠালি কলা অপু। সে তার কাঁঠালি কলা সঙ্গে নিয়ে, আহা সত্যিকারের কলার কথাই বলছি, তিন দিন আগে থেকে আমার বাড়িতে। আমার দাদার প্রেম করে বিয়ে, সেটাকে লিখিত ভাষায় অন্য কিছু বলে কি না জানি না, অতএব আমি বউদিকে চিনি ভালো করে, সেও আমাকে চেনে, (বিয়ের পড়ে হাড়ে হাড়ে চেনার কথা! সেটা তিনি ভালো করেই চিনেছেন আশা করি!), আর আমার সঙ্গে আমার স্যাঙ্গাৎ অপুকেও চেনেন।

তিনদিন আগে থেকে আমার বাড়িতে অপু এসে গেলেন দু-কাঁদি কাঁঠালি কলা নিয়ে, কাজের সময় খেতে ভুলে গেলে সবাই কলা দিয়ে যেন ম্যানেজ করতে পারে! অদ্ভুত লজিক। আমার বিজ্ঞ বিজ্ঞ দাদাটি এইসব দেখে এই মারে কি সেই মারে! সে আর কিছু করার নেই, আমার অপু, আমারই দোসর…তাহার বুদ্ধি, চিন্তা ভাবনা বৃহস্পতি গ্রহ থেকে আসিলেও সেটাকে সমর্থন করা আমার আমাশা হওয়ার পরে পটি যাওয়ার থেকেও বেশি দরকারি। অবশ্য মা কিন্তু দারুন আনন্দ পেয়েছিল। আমার কথা ছেড়েই দিলাম! টবে সমস্যাটা ছিল অন্য, কুকুরছানা যেমন তাহার মাতৃদেবী ছাড়া বাঁচে না, যেমতি ব্যাঙ্গাচি জল ছাড়া মৃত, তেমতি, একঘর লোকের সামনে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, গত এগারোটি বছর ধরিয়া (ঠিক আছে, ধরলাম বারমুডাটি’র বয়স চার, তাহলেও…!) তাহার ট্রেডমার্ক সবুজ রঙের বারমুডা আর তার উপরে গাড়ীর ছোপ ছোপ নিয়ে এক্কেবারে বিন্দাস এখানে ফুল লাগানো, ওখানে মাসতুতো দিদিকে নিয়ে পার্লারে নিয়ে যাওয়া, পিসতুতো দাদার ছেলেকে নিয়ে সার্কাসের ক্লাউন হয়া…সব করে গেলো।

আমার একটাই ভয় ছিল, সন্ধ্যেবেলা যেন যা তা, মানে ওই বারমুডাটা পরে না চলে আসে! আসেনি…সন্ধ্যেবেলা, আমি যখন মোটামুটি তিনটে লেয়ারের মেকাপ লাগিয়ে আমার নাভি বের করা লেহেঙ্গাতে তৈরি, সারারাত ব্যয় করে সত্যিকরে ঘুমিয়েছি, যাতে চোখের নীচে একটুও কালো না লাগে, অবশ্য তার আগে মাঝরাত অব্দি সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচেছি, অপুর গ্লাস থেকে একটুখানি মালও খেয়েছি, (সেটা অবশ্যই সবার ঘুমনোর পরে), অপু এলো, আমারই পছন্দ করে দেওয়া সোদপুরের পাঞ্জাবী বাজার থেকে কিনিয়ে দেওয়া ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবী, আর গাড় মেরুন রঙের কাজ করা লাল রঙের ধূতি পড়ে…সত্যি সেদিন আমি জীবনে প্রথমবার ওকে ভালোবেসে ফেলি…!!! আমি ক্ষমা চাইছি, এভাবে সবাইকে বলে ফেলার জন্যে। কিন্তু ভালবাসাটা বেড়ে গেছিলো, সেদিন ওকে আবিষ্কার করার পরে, যখন জানতে পেরেছিলাম… সেদিনও ধুতির নীচে ওর সেই সবুজ বারমুডাটা ছিল, গাড়ীর ছোপ ছোপ…

ও হ্যাঁ, অনেক রাত হল, আমি আর ভাবতে পারছি না… যেটা বলা হয়নি, সেটা হল, আমি সিগারেটের সাথে রাম খাচ্ছিলাম, এটা আপনারা কতটা ভাবতে পারেন জানিনা, বাবা-মা না থাকলে আমি বাড়িতেই আমি খাই! আর আমি খাবো আমার স্বামী সঙ্গে থাকলেও। সে আর আমার বয়ফ্রেন্ড আর নেই, কাল বিয়ে আমার… শুভেচ্ছা দরকার খুব একটা নেই, এগারোটা বছর খুব কম নয়, বাকিটা দেখা যাক…!!!

সৌগত

09.01.2017

pause

It’s been long I actually wrote something. Sometime we prolong our break and sometime we just ponder on work. It’s kind of our psychology. Sometime we nourish our hobbies and sometime we just let things go on as it is. The gap period was like that. I let the life move on of its own without much involving my own self in to it.

I concentrated on job, maintained a harmony of relationships with friends and relatives, tried my best to manage some time for regular exercises, quit smoking for a few good weeks and again didn’t take much time hug it. In these few months, I went to some places like Udaipur, then another trip to Ajmer-Pushkar.

I managed to meet some old friends, had sufficiently enough volume of alcohol of various brands and just let that six months approx time flow like nothing. I didn’t do anything specific but honestly that’s the most satisfying thing. Sometime it really feels good when you actually don’t do anything. This is the time, when you don’t daydream, don’t concentrate much on romanticism, poetry, and don’t find much interest in love making or watching porn.

This is the time when you just don’t bother if speedometer of your car starts crying, you just give bullshit to what your bosses or colleagues talk in your back. You don’t bother to maintain a good health, you don’t ask for a good book to read at leisure, you don’t start a new TV series.

This is the time when you just give damn to some unknown or semi known extra-marital affairs of your very so called near or dear ones and besides, you don’t feel any urge to start one with someone.

It’s just cool, like flowing river, it’s like continuous snowfall without bothering where am I settling may be on top of trees, on stones, on rivers or whatever it is.

And then slowly you start feeling, after so many struggles, after so many real days, you got a real life to live. Then you sleep naked, putting air conditioner on super chilled mode, consume a full 750ml of good wine with ‘n’ numbers of cigarettes, turn left, keeping hands at ninety degree with your body, making a proper ‘F’ where lower hand is managed with your erect dick.

Debraj

22.09.2016

 

WP 1A couple of days before, while cleaning up my room on weekend, after a booze party on Friday night at my place, I got some papers in my room, kind of torn pages from a diary or journal. There was not a single good words written there about me. Yes after working hard in office, spending good enough time at home, managing all the financial needs, buying new stuffs whenever required, dealing with familiar tensions, I was actually having a mind-set that I am doing good. I even gave myself 9 out of 10 in everything. I didn’t show my anger to anyone, I accepted my personal discomfort when I had to support my family, but there was not a single good words written there about me. Yes, after reading those, the whole day I spent in understanding what went wrong and what fault I made. Yeah, I got a few. I understood a few things I ignored considering it would not be noticed but it was noticed and noted down. All of a sudden I started feeling very low. It felt like I failed in an exam though I tried my level best.

WP 2Some negative thoughts also came in my mind like I must not do any more good things. I would have to ask the writer about the false blames, but slowly after spending a whole day with myself, after writing out a small poem, after watching India-Sri Lanka cricket match, I regained my mental spirit and decided not to live in any kind of negativities around me. I made a few rules, regulations for myself to follow. I don’t know how much my readers will connect with this but atleast it made me feel happy, made me strong enough to move on.

  1. Never get in to an argument which has no ending
  2. Never listen what other people say about you
  3. You didn’t take birth in a day and that was also not in your control. Handling any situation demands time and be wise to allot that
  4. Nothing comes for free, not even social service. You get tax exemption, happiness and sometimes a bit fame too
  5. Those who doesn’t have enough work or those who have never achieved anything in their life of their own, are the front runner in criticism business, avoid them
  6. Nurture hobbies, don’t make yourself so busy so that you don’t get time for what you actually enjoy
  7. Don’t keep grudge on anything or anyone, immediately react but don’t drag that far
  8. Enjoy companies of friends, but remember, if you enjoy, then only or else not necessary to get surrounded by people
  9. Exercise without fail. Alarm clock should not wake you up, but your passion should
  10. What is right is always right and what is wrong is always wrong. No need to live with something wrong hoping it will be right someday. It will never be
  11. Study even when you are earning good because studies keep you updated with things and works as natural brain refresher
  12. Attend calls, send mails, chat with people but avoid expecting anything
  13. Save money, save more than you could. Make savings a habit more important than earning also
  14. Enjoy every second. The moment you are dull, you must be sure very soon your surroundings would be dull and you would land in to a soup, middle of nowhere
  15. You can’t change anyone, so don’t try. Yes remember, you also don’t change yourself for anyone. You are fine, good enough
  16. Apart from all the above the things, do some meditation every day and walk for atleast 10,000 steps

WP 3

Debraj

15.02.2016

Gurgaon

WP3

Every day I see a lady, an elderly lady wearing pink top and legging jog in the ground. if I reach ground at 5am in the morning, I would find her and she stays till I end up my morning exercises religiously. It has always been tough for me to reach ground on time after a good weekend and now it has become my habit to skip exercises two days in a row, Sunday and then in continuation to that Monday too. It’s been very few times when I broke this self-made rule and presented myself in between soothing nature on a fine Sunday morning and there was no surprise. That lady with pink dress was there, busy with her practices.

I don’t know what is this? Why there is so much dedication in something? What if I bunk a class or take a leave from office? I often do it, though very rare, still I will say it often as I don’t get tired very often but whenever I feel tired, I send a sms to my boss and then call him after sometime before sending him an official leave application mail. At the age of sixty, maybe she is fearing death, or maybe she doesn’t have anything else to do in the morning, probably she lost her aged husband a few years before, maybe her siblings don’t want her around in the morning chores, maybe she feel happy coming in the ground, may be it is a kind of discipline, forceful discipline to stay alive amidst all the crazy situations around us.

I don’t know whether I follow any kind of such discipline. I go office not because I feel bored at home I love my job, it is simply because I get money for working there and that’s the easiest way to earn money. I believe, there is no life without money unless otherwise you are being sponsored by any person or organization. So I go office every day, mostly without any fail. But what could be the motivation for that lady to wake up early in the morning and do exercises in the ground, that also without a single day fail.

After noticing this for almost six months, one fine morning, I decided to talk to her to know her motivation to do so or may be the reason behind it. I was mentally prepared to hear anything nut no, I didn’t had to hear anything painful. She politely narrated me a story while holding a smile always in her face. I am trying to write the story in her words.WP4

Hey you, my son, I am ready to hug my death any day. I am having high blood pressure, thyroid and some other less critical issues which you will find in almost every person of my age. I have problem in my knees since my childhood after I fell from a stool at the age of six only, I could not walk properly. One morning, while playing in my court yard, suddenly a dog chased me and I started trudging with my legs and then suddenly I started running like anything, ooops, no son, nothing of that kind happened in my life. There was no Forrest Gump incidence in my life. Anyway, then my dad took me to a school and I was not doing very well there. One fine morning a close relative of mine came and shouted on me for not doing well in exams. He gave examples of nearby guys who were of my same age and were doing extremely well. That was an eye opener for me. I studied well, better, worked day and night and my hard work was properly compensated by awarding me rank one. Oooops, noting of that kind happened also in my life. I never did well in my exams, never tried also. Okies, my son, I know I am actually confusing you a lot. My simple suggestion to you is, stop following people. One should not have any time to listen other’s shared knowledge but make sure that you got enough experience. Remember what Forrest Gump’s mom said him, ‘Stupid is as stupid does.’ We all are stupid and so let’s not act as high intellectual. None is more disciplined than you, hard worker than you and Hey You, you are the best, believe it, act accordingly.

It was good knowledge for me. I stopped listening to many suggestions, various explanations of religious books and spiritual discussions, rather I started noting down things around me and convert it to an experience, which must enrich me, and I guess we all believe motivation comes automatically.