Archive for the ‘Social’ Category

 

Jodi 01

হোটেল উর্বশীর পাশ দিয়ে গলিটা ধরে সোজা গঙ্গায় নেমে যাওয়ার রাস্তা দিন তিনেক আগেই খুঁজে পেয়েছিলাম। একটা বাঙ্গালি আছে, মানে একটা নয়, অনেকই আছে, তবে আমি বলছি বাঙ্গালি চায়ের দোকানের কথা, মধু নাম লোকটার। হৃষীকেশে আসার পরের দিনেই সকালবেলা দেখা। কথা বলতে বলতেই বুঝলাম, মানে সে বুঝল যে আমি বাঙ্গালি। অবশ্য আজ এই পঁয়ষট্টি হবো হবো বয়েসে ভারতের এগারোটা রাজ্যে কাজ করার পরেও আমার সঙ্গে কথা বলার পরে কেউ একটু সুযোগ পেলেই এটা জিজ্ঞেস করতে ছাড়েনি যে, আপনি বাঙ্গালি! আজব ব্যাপার, এতদিন, মানে প্রায় চল্লিশ বছর বাইরে কাটিয়েও আমার কথা শুনে নাকি দিব্য বোঝা যায় এই মালটা আলুপোস্ত ডাল ভাত ছাড়া বোঝে না। অবিশ্যি তাতে আমার খুব একটা কিছু যায় আসে না। তা যা বলছিলাম, তো সেই মধুর দোকানে এক কাপ গরম গঙ্গাজল, যেটাকে ও এখানে চা বলে দিব্য চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা খেয়ে ঘণ্টা খানেক চক্কর মেরে দেখে আসি দেশি বিদেশিগুলো কেমন সব শরীর চর্চা করছে সক্কালসক্কাল। বলতে গেলে এটা আমার ফ্রিতে চৌকিদারি আরকি! ওরাও আমাকে পাত্তা দেয়না, আমিও মোটেই পাত্তা খুঁজি না। উর্বশী হোটেলের পাশের রাস্তাটা আমাকে মধুই বলেছিল। মধু লোকটা বেশ অদ্ভুত। মধ্য বয়েসি লোক, হৃষীকেশে চা বেচছে প্রায় দশ বছর। আস্তে আস্তে এখানেই সব গুছিয়ে নিয়েছে। নিজে থেকেই কথা বলে, নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। এই যেমন আজই সকালে এরকম একটা ঘটনা হল, জানেন কাকা, আজকাল এই বিদেশীদের চক্করে ড্রাগের ব্যেবসা খুব বেড়ে গেছে, আসবে সব যোগের নামে, তারপর এখানে ওখানে ব্যোম ভোলে বলে শুয়ে পরবে এর ওর সাথে, ওদের দেশে তো এইসবই চলে। একদিন সকালে দেখি আমার দোকানের সামনে শুয়ে আছে, গায়ে কাপড় চোপর নেই বল্লেই চলে, কিন্তু বিদেশি, কিছু বলার নেই, হই হই করে ঘুম থেকে তুলে এক কাপ চা খাইয়ে বিদায় করলাম। চা খাবে কি, মুখ দিয়ে তখনও নেশার ঘোর কাটেনি। পুলিশও সব জানে, কিন্তু কারুর কিসসু করার নাই, অতিথি দেবো ভব। আমার চা খাওয়া শেষ হলে, আমিও উঠে পড়ি।

এইবার নিয়ে চার বছর হল, আমি, মানে আমরা প্রত্যেক শীতের সময় এখানে এসে দিন দশেক কাটিয়ে যাই। স্ত্রীটি আমার শীতকাতুরে, সে সক্কাল সক্কাল বেরোতে চায়না, আর আমার আবার সকাল হলে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে ইচ্ছে করেনা। গতবছরে এখানেই একটা হোটেলের সঙ্গে বন্দোবস্ত করে নিয়েছি বছরে দশদিন থাকবো বলে, সে ব্যাটাও বাঙ্গালি, তাই বুড়ো-বুড়ীকে হই হই করে স্বাগতম করে। আর এমনিতেও শীতকালে দিল্লির ঠাণ্ডাতে কাঁপতে থাকা জনতা খুব একটা এদিকে আসে না, খালি খালি থাকে বেশ সব কিছু। আমি সেই সকালবেলা একটা জ্যাকেট, একটা শাল আর একটা লাঠি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি বিদেশীদের কসরত দেখতে। স্বদেশি খুব একটা দেখা যায় না সকালে, বিকেল থেকেই তাদের সময় শুরু হয়, চানাচুর, মাংশ আর রামের বোতল নিয়ে বসে পড়ে ঘরের মধ্যে। আমিও গিলি, কিন্তু আমার আবার রামে ভক্তি কম, তাই সাহেবি বোতল নিয়ে গত ত্রিশ বছরের মত আজও মৌনব্রত নিয়ে বসে বসে টিভি দেখি। আমার স্ত্রী তখন হয় মোবাইলে, নয়তো একটা বই নিয়ে বসে থাকে। সত্যি, এটা একটা মজার ব্যেপার, আমাদের কথা বার্তা মোটামুটি বিয়ের দু-বছরের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিলো, তারপরের তিন বছর চেষ্টা চলেছে কথা খুঁজে বের করার, কিন্তু পাওয়া যায়নি, যেমন আমার নতুন কিছু কথা আসেনি, তারও তেমনই। আমাদের ছেলেপুলেও নেই যে তার সংসারের বেগুন আলু মুলোতে নিজের মাথা লাগাবো, তাই একদম সুন্দরভাবে দুজনে মিলেই একটাই ঘরের ভিতর একসঙ্গে যে যার মতন জীবন কাটাচ্ছি।

মোবাইল ব্যাপারটা আমার ঠিক ধাতে আসে না, আমি বরং কম্পিউটারে বেশ সড়গড়। আমার বউ এর উলটোটা, সে মোটামুটি কাজের লোককেও পারলে মোবাইলে লিখে নির্দেশ দেয়। বাইরের লোকের সঙ্গে কথা কমাতে কমাতে এখন আর তেমন আমাদের খোঁজ খবর রাখারও কেউ নেই, আমরাও আজকাল আর তেমন খোঁজ খবর খুব একটা রাখিনা দেশদুনিয়ার। কোথায় কার বাড়ি লাউএর ঝোল রান্না হয়েছে আর কার ছেলে মেয়ে আমেরিকা গিয়ে বকফুলের বড়া বানিয়ে খেয়েছে বা কার নাতি বেঙ্গলি তে কথা বলতেই পারে না, এইসব শোনার বা শুনে বেশ একটা বিজ্ঞ বিজ্ঞ মন্তব্য করার দরকার পড়ে না। সাতে নেই, পাঁচে নেই, বউ এর সঙ্গেই পঁয়ত্রিশ বছরের বিবাহিত জীবনের মধ্যে গত ত্রিশ বছরে মেরেকেটে ত্রিশটা কথা, যেটা কিনা এখনও মনে আছে, বলেছি কিনা সন্দেহ। চুটিয়ে চাকরি করেছি, প্রচুর জায়গা ঘুরেছি কিছুটা বেড়ানোর তাগিদে, কিছুটা চাকরির জন্যে আর সত্যি বলতে লজ্জা নেই, বাকিটা লোক দেখাতে। হ্যাঁ, মিস্টার মিত্তির চললেন অস্ট্রেলিয়া, তো পরেরবার আমাকেও একটা নিউজিল্যান্ড ভ্রমন করতেই হবে! তবে এইসব করেও বিন্দাস চালিয়ে গেছি জীবন।

ভাল একটা চাকরি ছিল, বেসরকারি কিন্তু ভাল মাইনে। জীবনের প্রথম তিন বছর খুব কম টাকায় চাকরি করেছি, তারপরে সবই বেশ মোটা মাইনের। প্রথমের দিকে জমানোর টাকা থাকতো না, পরের দিকে কিছুদিন জমানোর পরে বুঝলাম এর কোন মানেই হয়না, কিন্তু তাহলেও বেশ কিছু টাকা জমে যেত, তার একটা বড় কারন যদিও আমাদের ছেলেপুলে না থাকা, হাসপাতালের খরচা নেই, পড়ানর খরচা নেই, আবদার মেটানোরও দরকার নেই, তাই বাষট্টি বছরের পরেও যখন দ্বিতীয় বারের জন্যে আমার কন্ট্রাক্ট আরও দুবছর বাড়ানোর কথা উঠল বোর্ডের মীটিঙে, আমি সোজাসুজি না বলে দিলাম। সাদা জামা, কাল প্যান্ট আর চকচকে জুতোর জীবন অনেক হয়েছে, এবার মরার আগে ঢিলে পাজামা আর তার উপরে আরও ঢিলে কুর্তা পরে কটা দিন একটু আরামে কাটাতে চাই। কিন্তু এটারও একটা সমস্যা আছে, একরকমের জীবন ছেড়ে পরেরদিনই অন্য জীবনে ফেরা কিন্তু খুব সহজ হয়না, কিন্তু কপাল ভাল আমার, আমি প্রথমদিন থেকেই একেবারে স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠলাম। তারপর থেকে শীতকালে দশদিনের জন্যে হৃষীকেশ, গরমকালে দশদিনের জন্যে দার্জিলিংটা আমি বা আমরা মোটামুটি ঠিক করেই রেখেছি। বর্ষাকালে আমাদের বিবাহবার্ষিকী, তাই বর্ষাকালে কোথাও যাওয়াটা আমাদের দুজনের একটা মীটিঙের পরে ঠিক হয়। আমার পছন্দ আমার স্ত্রীর পছন্দ হয়না, আবার আমার তাঁর পছন্দ পোষায়না, কিন্তু বেড়ানোর তাগিদে দুজনেই দুজনের অপছন্দটা সহ্য করে এগিয়ে চলি, যেভাবে চলেছি এতটা পথ। এইবার গেছিলাম শ্রীলঙ্কা।

যাইহোক, মধুর দোকানে ফেরা যাক, যেহেতু কম কথা বলে অভ্যেস হয়ে গেছে, আর এদিকে বয়েসটাও বেড়েছে অনেকটাই, তাই একটা কথা লিখতে গেলেই অনেক কথা চলে আসে। মধুই বলেছিল পাশের একটা গলি দেখিয়ে, ওটা দিয়ে গেলে একটা ঢাল পড়বে, আর সেটা দিয়ে নেমে গেলেই নাকি গঙ্গা। গত তিনদিন ধরে এই রাস্তাটাই ফলো করছি। সকালবেলা দারুন ঠাণ্ডা একটা হাওয়া দেয়, মাফলারটা ভাল করে জড়িয়ে সেটা দিয়েই নেমে যাই।

শুক্রবার, সকালের দিকে ভিড় একেবারেই থাকেনা, বিকেলের থেকে অল্প অল্প করে লোক বাড়ে, সবই পরিযায়ী পাখি, তীর্থের নামে মদ গিলতে আসে, আমার মতই ভণ্ডের দল আর এইজন্যেই আমার ভাল লাগে এই হৃষীকেশ। এখানে তীর্থ আছে, রাতেরবেলা বাইজী নাচের কাছাকাছি মোচ্ছব আছে, বেওসা আছে আর খোঁজ করলে বেশ্যাও নিশ্চয় পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। লোকে এখানে যোগা করে, রাতেরবেলা ভোগা করে। সব থেকে ভাল লাগে এটা দেখে যে এইসব কিছুই কেমন একটা ঘোমটার আড়ালে। এখানে তীর্থও হয় অন্যরকমভাবে। মানে যদিও এটা হরিদ্বারের উপরে, কিন্তু তীর্থ-গুরুত্বের মাপকাঠিতে কম, আবার এখান থেকে আরও উপরে উঠে গেলে দেবপ্রয়াগ, তারও উপরে কেদারনাথ, বদ্রিনাথ। অর্থাৎ ঠিক মাঝামাঝি একটা গুরুত্ব নিয়ে সমতল আর পাহাড়ের মাঝামাঝি জায়গায় থেকে যোগা থেকে ভোগা উপহার দিচ্ছে এই জায়গা। এখানে অনেকবছর আগে বিটলস এর লোকেরা এসেছিল আত্মানুসন্ধান করতে, এখানেই সেই বিখ্যাত নীলকণ্ঠমুনির মন্দির, আবার এখানেই প্রত্যেক গঙ্গার ঘাটে লুকিয়ে গাঞ্জা আর শহর থেকে ছুটি নিয়ে সময় কাটাতে আসা তরুন তরুণীর মিলনের জায়গা। এখানে কিছু দোকানে মাছ মাংশ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকাশ্যে নয়, বলে রাখলে দু-তিন ঘণ্টা পরে পাওয়া যাবে। রামঝুলা আর লক্ষ্মণঝুলার মধ্যে কোনটা বড়, তা নিয়ে তর্কের অবকাশ না থাকলেও কোন যোগে শরীরের কোন জায়গার ঠিক কতটা উপকার হবে, তা নিয়ে প্রচুর লোকের প্রচুর তর্ক প্রত্যেকটা দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে, আর তাদের কথা অনুযায়ী তাদের পদ্ধতিটাই সব থেকে ভাল। আমি অবিশ্যি আমার পদ্ধতিতেই চলি।

আমি যাওয়ার সময় এইসব ভাবতে ভাবতে মধুর দোকানে এক কাপ চা খাই, তারপরে ঠিক একটি ঘণ্টা হাঁটি, মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায়, ফুসফুসটাও কেমন একটা দম পায়, তারপরে ফেরার সময়ে আরেক কাপ চা গিলে আয়েশ করে কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হোটেলে ফিরে আসি। গত কয়েকদিন ধরে বুকের বাঁদিকে একটা চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে, আর বয়েসটা এমনই যে কিছু হলেই মনে হয় কিছু হয়ে যাবে। এমনিতে কিছু হয়ে গেলে তাতে আপত্ত্যি বেশি কিছু নেই, কিন্তু না বলে কিছু হয়ে গেলে নিজেরই হয়ত একটু খারাপ লাগবে।

সে যাই হোক, আজ সকালের দিকে একটা ঘটনা ঘটেছে, আমি ফিরছিলাম ত্রিমূর্তি গুরু দত্ত আশ্রমের পাশ দিয়ে, হঠাৎ করে মনে হল একটা চেনা ছায়া পাশ দিয়ে চলে গেল। তবে চেনা বলা ভুল, অন্তত আজ চল্লিশ বছর পরে তাকে চিনে ফেলার প্রশ্নই আসেনা, কিন্তু কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে যায় যে চমকে উঠতে হয়, আর সেই ঘটনার ঘোর কাটাতে সময় লাগে।

বয়েস বাড়ার পরে একটা জিনিস বুঝতে পারি, জীবনে যা কিছু ঘটে, সব কিছু ঘটতে দেওয়াই ভাল। ভাল জিনিস হয়ত তেমন মনে থাকেনা, কিন্তু দুষ্টুমি, বা যত বাজেকাজ, সব ঠিক মনে থেকে যায়, আর কখনো কখনো নিজের অবচেতনেই নিজেরাই হাসতে পারি, বা হয়ত মনে করে ভাবতে পারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আমার মনে পড়েনা আমি জীবনে কতবার প্রথম হয়েছি স্কুলের পরীক্ষায়, কিন্তু এটা ঠিক মনে আছে যে প্রথমদিনেই আমাকে কান ধরে দাঁড়াতে হয়েছিল।

মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট বয়েসের প্রমান ছাড়া আর কোন কাজে লাগেনি পরবর্তীকালে, কিন্তু সার্টিফিকেট আনার সময়টা মনে আছে, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ভাবছিলাম অন্যস্কুলে ভর্তির ফর্ম তুলবো কারন সমীরণের বান্ধবী আমাদের স্কুলে নয়, ভর্তি হবে নাকি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্কুলে। তারপরে যদিও সে দরকার পরেনি, কারণ সায়নি আমাদের স্কুলেই ভর্তি হয়েছিল আর সমীরণের জীবনের প্রচুর ব্যাথার সঙ্গে আরও একটি ব্যাথা যোগ করে চলে গিয়েছিলো অনেকদুরে, যে দূর থেকে আর কখনও ফেরা যায়না।

টানা তিনমাস সমীরণ আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেনি, যতক্ষণনা তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিতে মালবিকার আবির্ভাব ঘটে। মালবিকার আবির্ভাবের পরে টানা ছয়মাস আমাদেরও দরকার পড়েনি, যতক্ষণনা সায়নি সমীরণকে ছেড়ে সময় কাটাতে শুরু করে সৌম্যের সাথে আর সমীরণ আবার নিজেকে আমাদের দলে সমর্পণ করে। সমীরণের ঠিক কতগুলি প্রেম ঘটেছিল, সেটা ও কলেজের থার্ড ইয়ার থেকেই মোটামুটি ভুলে যেত, তবে তখনই কম করে হাফ ডজনের থেকে কম ছিলনা, আর প্রেম যখন ছিল, তখন ব্যাথাও ছিল, আর ব্যাথাও যখন ছিল, তাই আমাদেরও দরকার ভালমতই ছিল, আর সমীরণ আমাদের এত ভাল বন্ধু ছিল যে তাঁর ব্যাথা মানে আমাদের সাহারা মরুভুমির মধ্যেও মউসিনরামের উদয় ছিল প্রায় দ্বিমাসিক ঘটনা। সমীরণের একটা করে ব্যাথা বাড়বে, আর সেটা ভোলার জন্যে সবার আগে আমাদের জমায়েত হত ছউঘুপির মাঠে, তারপরে প্রচুর সিগারেটের সাথে আমরা সব ফেলু মিত্তিরের মত ঘটনার কারন অনুসন্ধানে ব্যাস্ত হয়ে পরতাম আর সেই সুযোগে সমীরণ আবার অন্য কাউকে তাঁর চোখের জল মোছানোর সঙ্গী বানিয়ে নিত। পরের দিকে আমরা আমাদের এই কাজের নাম দিয়েছিলাম পর-বিবাহ-নর্তকী, মানে নিজেদের যেন বিয়ে হওয়ার নয়, তাই অন্যের বিয়েতেই নেচে আসি, সোজা কথায়, বান্ধবীর খোঁজের দরকার নেই, সমীরণের গণ্ডাখানেক বান্ধবীদের নিয়ে চর্চাতেই ব্যাস্ত ছিলাম।

সেই সমীরণের সাথেই আমার বন্ধুত্বটা শেষ হয়ে গেছিলো ওরই এক সম্পর্কের টানাপড়েনে। কলেজের পড়া শেষ করে আমি তখন সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি, নকশাল আমলের লড়াইতে আমাদের সেভাবে পরতে হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক টানাপড়েন দেখা হয়েগেছে, কংগ্রেসের যুগ শেষ হয়ে লাল সেলামের আমলে আমাদের সব থেকে বড় সঙ্গী ছিল রাজনৈতিক চেতনা, মনে হত, মার্ক্স আর এঙ্গেলের সাথে আমাদেরও দেশে আস্তে আস্তে সমাজবিপ্লবের বন্যা বয়ে যাবে, আমাদের দেশেও প্রত্যেকটা মানুষ খেতে পাবে, রাতে শোয়ার জন্যে পাবে একটা ছাত, আর কোন শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে মরবে না, আর ভিয়েতনামের লোকেরা আমার আপনজন, আমার নিজের ভাইয়ের থেকেও আপন। রাষ্ট্রে ইন্দিরা গান্ধী, কখনও জোট সরকার, বাংলায় স্লোগান তুলতাম, তোমার নাম আমার নাম, আমার দেশ ভিয়েতনাম, বা কখনও, এ স্বাধীনতা ঝুটা হে, কিন্তু এভাবেই আস্তে আস্তে নিজের একটা পরিচিতি তৈরি হয়ে গেছিলো। লোকে জানত আমাকে বামপন্থী হিসেবে। আর বামপন্থার পুরস্কার পেলাম একটা চাকরি। যে কোম্পানিতে চাকরি পেলাম, সেখানেই ছিল সমীরণের দ্বিতীয় প্রেম মালবিকা। রোজই একসাথে যাতায়াত, একসাথে কাজ করার সুবাদে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম মালবিকার সাথে। তবে তখনকার ঘনিষ্ঠতা এখনকার মত চুমু দিয়ে শুরু হত না। ঠিক মনে নেই, কিন্তু চুমুতে পৌঁছতে একবছরের বেশি সময় লেগেছিল। শহরতলীর ছেলে আমি, আর আমাদের বন্ধুত্বের একটা ঘনিষ্ঠ দল ছিল। আমরা ছয়জন ছিলাম খুবই কাছের, আর তাতে অতি অবশ্যই সমীরণ ছিল। বন্ধুদের মধ্যে আমার সম্পর্কের কথা পৌঁছতে দেরি হল না, ছউঘুপির মাঠে সবার সামনে আমাকে আমাদের বন্ধুত্বের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হল, আর কি করে জানিনা সবার মধ্যেই আমাকে নিয়ে, আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠে গেল, আর সেদিন সন্ধ্যেবেলায় যখন আমরা আমাদের সাইকেল নিয়ে উঠলাম, আমি বুঝতে পারলাম, ওরা আর কেউ আমার বন্ধু নয়, আমি আর দরকারি নই তাদের কাছে!

আমিও আর যাইনি বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে তাদের কাছে, মালবিকার সঙ্গে সম্পর্কটা হারিয়ে গেল পারিবারিক টানাপড়েনে। মালবিকার বাবা পাত্র খুঁজে আনলেন আর আমাদের সম্পর্কের পূর্ণতা দাবি করার আগেই বিয়ে হয়ে গেল তার। সেই ঘটনার পরে চল্লিশ বছর কেটে গেছে। আমি চাকরি নিয়ে চলে যাই দিল্লী। তারপরে আস্তে আস্তে পদোন্নতি, নিজেরও বিয়ে। মন থেকে মালবিকা মুছেই গেছিলো, বা মাঝেও খুব একটা কিছু মনেও পড়েনি, সমীরণের হয়তো দ্বিতীয় প্রেম ছিল, কিন্তু আমার প্রথম প্রেম কিন্তু মালবিকাই। তাহলেও আমার এইসব ঠুনকো অনুভবের বড়ই অভাব, তাই যেদিন মালবিকা ছেড়ে চলে গেছে, সেদিন থেকে আমিও আর তার দিকে তাকাইনি, না, সমীরণ বা অন্য কারও কাছেও আবার বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে ফেরত যাইনি। যে পথ চলে গেছে, আমি সেই পথেই চলতে পছন্দ করি।

কিন্তু আজ হঠাৎ কি হল জানি না, সেই সবজে রঙের শাড়িপড়া, কাঁচাপাকা চুলের চেনা ছায়াটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে। আমি আবার সেই রাস্তা ধরলাম, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই ফিরে এসেছি, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই হয়তো আমার চেনা ছায়া এগিয়ে গেছে উলটোদিকে। মহীপালের রুদ্রাক্ষের দোকানটা পার হতেই চোখে পরে গেল সেই মুখ, সে মুখ ভোলার নয়, চেনা ছায়া সত্যিই আমার চেনা, অন্তত কখনও চেনা ছিল। সঙ্গের ভদ্রলোকটিকে নিয়ে মধুর দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা খাচ্ছে। আমাকে এগোতে গেলে তাদের পেরিয়ে যেতে হয়, পিছতে গেলে কেমন একটু অদ্ভুত লাগে, কিন্তু কিছু করার নেই, বয়েসের সাথে নিজের পা’ও কেমন অনিশ্চয়তায় ভুগছে, আমি বোধয় তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকেই, তখনই আমার দিকেই চোখ পড়লো ওর, আর তখনই আমার পায়ে সাড় ফিরে এলো, আমি হঠাৎ কিছু মনে পড়েছে ভাব করে ফেরার রাস্তা নিলাম, ঠিক বুঝতে পারলাম না আমাকে চিনেছে কিনা বা তার চোখে মুখে কিছু ভাবান্তর হল কিনা, বা দূর থেকে ঠাহর করতে পারলামনা কোন দীর্ঘশ্বাস পড়লো কিনা।

 

Debraj

(Pic Courtesy:Google)

27.06.2018

Mumbai

Advertisements

stickers-a-styleAaah…finally back on this page, this site. Nope, i didnt find anything to write since i last wrote something and right now also i dont have anything to mention and whats more, i doubt tomorrow i will get something to write too but still thought of playing with Keyboards. SOmetime it helps, when you know you have nothing to do but still you breathe as it happens under automatic process, likewise, when one got nothing to do and really submerged in to a deep hole knowing no way out of the darkness, can let the fingers run ‘automatically’ on the keyboard. i am exactly doing the same, i am not caring about the grammar, dont have anything in mind, oops, i have a lot of things in mind and actually having trouble to channelize it.

Anyway, lets not talk much, sorry write much, only will share a few good thoughts came in my mind,

  1. Need not to do good to anyone, just done do bad to anyone, better you don’t do anything for anyone
  2. Even most precious metals, stones are invisible in darkness, consider yourself to be the valuable one and blame darkness for not being recognized
  3. ‘Fuck’ is more powerful to calm you down than uttering “Om” sometimes, and most of the times you can say it in-front of anyone and that also adds value to your personality
  4. And lastly, if you seriously say, Fuck, ensure even last sec of hardness is not wasted

Thanks

May come some other time with some better ideas and yes, may be with some good mood to write another trash.

05.06.2018

Mumbai

Probably after long one month, I finally got some time to spend with myself. Honestly this new job is really checking my capacity to handle stress, tension, work load everything. Everyday morning, I wake up at 7 am, then immediately after waking up, I rush to washroom, get ready, prepare breakfast while getting ready, pack it in lunch box, put it in a bag, arrange my office bag, take car key and start rushing in the Mumbai traffic. Then try not to honk at any point of time on the way to my office putting FM on high pitch and reach my office after travelling 43 km in 1 hour, if lucky, park my car outside office in open parking area, assemble by trouser, take the laptop bag in shoulder, lunch box in other hand start running for lift. Then the permutation combination phase, which life will come fast and probability of getting in is higher as there is no queue in front of life. After participating in that race, I reach office with a smiling face enjoying good morning wish by my sub-ordinates and finally settle, better say leave my ass to settle on a cushy mushy chair. Office boy brings a glass of water and then a hot coffee. The moment I open my laptop and start checking mails in outlook and newspaper in google chrome, intercom rings, hey man, good morning, can you please come for 1 minute? Sometime I think of replying, no sir, I can’t come, but I can’t because at this point of time, I am not having any back up job in my hand and I have a wife, I have a social status, I have a bunch of friends, I have handful of well-wishers and a bunch of bad wishers as well around me who may forget to shit in the morning but never forget to keep their watchful eyes on me. So I can’t just type a letter and throw that on my boss saying, fuck off! Hey, come on, don’t get me wrong, I am not at all frustrated with my job. Actually I enjoy working whole day, attend meetings, taking decisions, make fun of any small funny incidents and take charge of a whole bundle of deliverable. Anyway, I work whole day till evening, may be by 7 pm, I log off and again take my car key to jump in to the battle of returning home. In evening, I usually take long 2 hours to reach at home. So I reach around 9 pm every day, feel blessed when my wife offers me cooked food. O yes, sometime, I take a peg of whiskey and act like drunk to forget all the shit I did whole day including travelling to office and returning back and then enjoy my dinner while watching TV. Then I go to sleep.

So that my daily ordeal. I just don’t do anything apart from the above mentioned schedule. I may take 30 min more in one activity than other but overall the story is same.

Ok now, I guess you are much tired of reading my boring story because I guess you also got almost same like mine. Then let me tell you another story, funny is this is not funny and I assure, your story matches mine and for obvious reason my story matches exactly with yours. To be honest, we everyone have same story in life and still we try to extract thrill out of it. You earn, you socialize, you take responsibilities both at home and at work place, in both place you get bare minimum hike in your salary as well as importance at your home. You earn, you spend, sometime for yourself and most of the time for others only to remain included in that circle but most of the time you end up with getting criticized for what you haven’t done at all, still you smile, keep yourself busy in aspiring more and more with a dream of achieving everything in life as soon as possible hoping there is a world, where everything you do is appreciated without any miss and you continue living. You earn, you fight to streamline what is not in order. With your hard work, dedication, you reach closest to that place and find out while concentrating on one thing, you missed another thing. You again try to assemble that. Your job is never finished.

Hey cool, no need to thank me, we all are co-traveler in same boat. We will never reach our destination and please don’t get frustrated for that. Let’s keep trying.

Sougata

24.05.2017

pink

In no way I feel women should be given equal rights. It is not a matter of necessity, it is a pure propaganda, for which urban literate people are fighting with each other and those who just don’t bother are facing the same existence crisis every single day. Moreover, the demand for equal right is a goddamn fucking joke. Women already are equal to men. I am talking about the places where this sense of equilibrium is asking for serious oxygen. I meant to say it has appealed to the literate and urban generation only. In city, we have enough time to think and distinguish things as per our own wish. Whatever you say right, most of the time I find it wrong. That’s the clash. Black & white, Urban & rural, men-women…who does fucking care except their own bread? Who has to earn his own bread, he knows the value of it, who eats bread earned by someone else, gets time to create turbulence among society. And there the concept of Pink comes.

The moment girls try to come out of their own color and get missed with guys, guys think they are giving ‘hints’, they starts thinking whatever they want can do with a girl, though there is strong laws and enforcements against that. Then why? Even quite aware of strong laws and probable enforcements, still why there are many cases of Rapes, Molestation etc are increasing day by day? Here the subtle statement comes. It’s kind of arrogance and then a feel of insecurity. It’s that feelings which forces one to show the power to prove superiority. It’s the same show offs which the person used to see it throughout his upbringing between his own mother and father. It is the eternal clash between two different sexes. None writes about the everyday trouble a man faces in his married life, none talks about the urge of having sex is considered max once or twice in a year and still the man is officially not allowed to have sex with other women though it’s a kind of physical requirement. How many books have been written on domestic violence on men? Very little research on this and surprisingly even lesser see the light of publication!

Then? What is the issue? Both of them are somehow molested, terrified and still the system to move on without any prejudice.

No, here is the conflict. That’s the beauty of the movie ‘Pink’. In a scene Mr. AB said “No Means ‘No’, ‘No’ itself is a complete Sentence.”

As conclusive statement, Pink is not a movie on being strong Womanist. It is actually a fantastic movie where one should know the power of the sentence “No” first and then other things. It is wonderfully said, knowing ‘no” is more necessary than understanding ‘yes’.

Debraj

26.09.2016

Gurgaon

pause

It’s been long I actually wrote something. Sometime we prolong our break and sometime we just ponder on work. It’s kind of our psychology. Sometime we nourish our hobbies and sometime we just let things go on as it is. The gap period was like that. I let the life move on of its own without much involving my own self in to it.

I concentrated on job, maintained a harmony of relationships with friends and relatives, tried my best to manage some time for regular exercises, quit smoking for a few good weeks and again didn’t take much time hug it. In these few months, I went to some places like Udaipur, then another trip to Ajmer-Pushkar.

I managed to meet some old friends, had sufficiently enough volume of alcohol of various brands and just let that six months approx time flow like nothing. I didn’t do anything specific but honestly that’s the most satisfying thing. Sometime it really feels good when you actually don’t do anything. This is the time, when you don’t daydream, don’t concentrate much on romanticism, poetry, and don’t find much interest in love making or watching porn.

This is the time when you just don’t bother if speedometer of your car starts crying, you just give bullshit to what your bosses or colleagues talk in your back. You don’t bother to maintain a good health, you don’t ask for a good book to read at leisure, you don’t start a new TV series.

This is the time when you just give damn to some unknown or semi known extra-marital affairs of your very so called near or dear ones and besides, you don’t feel any urge to start one with someone.

It’s just cool, like flowing river, it’s like continuous snowfall without bothering where am I settling may be on top of trees, on stones, on rivers or whatever it is.

And then slowly you start feeling, after so many struggles, after so many real days, you got a real life to live. Then you sleep naked, putting air conditioner on super chilled mode, consume a full 750ml of good wine with ‘n’ numbers of cigarettes, turn left, keeping hands at ninety degree with your body, making a proper ‘F’ where lower hand is managed with your erect dick.

Debraj

22.09.2016

ও নিজেই গল্প করে ব্যাবসা চলছে মোটামুটি ভালই, আস্তে আস্তে মার্কেট বাড়ছে, লোকে চিনছে ওর প্রোডাক্ট, ভালো ভালো কমিশন রাখছে সেলারদের জন্যে। শুরু থেকে মানুষ কিছুই শিখে আসে না, তাকে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে জানতে হয়, বুঝতে হয় সব কিছু, তখন পদে পদে তাকে গাইড করার জন্যে লোক থাকে, কখনও বাবা মা, কখনও অন্য বড়রা। আগে একান্নবর্তী পরিবারের যুগে বাচ্চারা খুব ছোটবেলা থেকে কথা বলতে শিখে যেত, এখন ঘর ছোট হয়েছে, বাগান শেষ হয়েছে, বাবা মায়ের ব্যাস্ততার মাঝে অবসর কম, বাচ্চারা শিশু থেকে হটাত বালক হয়, তারপর হটাত করেই একদিন কেমন বড় হয়ে যায়।

কি করছিস ভাই ছাদে দাঁড়িয়ে, তারা গুনছিস নাকি? মস্করা করলো নন্তু। নন্তু অবশ্য এইদশাটা জানে অর্কর। অর্কর এরকম স্বভাব আছে, মাঝে মাঝেই নিজেতে হারিয়ে যায়, কোন অদ্ভুত কিছু নিয়ে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পরে।

নন্তু এক কথা বল, ছোটবেলায় যখন পরীক্ষার খাতা বের হতো বাড়িতে দেখানোর জন্যে, কেমন লাগত তখন?

নন্তু ঘুরল, তাকাল আকাশের দিকে, তারপরে আস্তে করে বলল, ঠিক ওই আকাশের মত, মনে হত খারাপ পরীক্ষা দিয়েছি তো জানতামই, শুধু শুধু বাবা-মা’র কাছে বেইজ্জত করার কি দরকার বাপু!

অর্ক হেসে ফেলল, নন্তু কোন কালেই ভালো নাম্বার পাওয়াদের দলে ছিল না, ওর বাড়ি থেকেও সেরকম কোনও চাপ ছিল না, খারাপ নাম্বার পাওয়ার পরে ওর বাবা-মা কে কখনো মুখ লুকোনোর দরকার পড়েনি, যেমনটা ওর বাড়িতে হতো, খারাপ নাম্বারের থেকেও বড় ছিল পাড়াতেই অন্য আরেকটি মেধাবী ছেলের বেশি নাম্বার পাওয়া, অর্ক চেষ্টা করতো না, তা নয়, কিন্তু সেই ছেলেটা আরও বেশি চেষ্টা করতো, আরও বেশি নাম্বার পেত, ফল হতো এইযে বাবা অফিস থেকে ফেরার পরে কখনও খুব করে ঝাড় পড়তো, কখনও মন খারাপ করে মা একবেলা খাওয়া ছেড়ে দিতেন। এই ফ্রাস্তেসানটা কখনও যায়নি অর্কর। একসাথে বিকেলে খেলতে যাওয়া, তারপরে আবার পরের দিন সকালে এক থালা ভাত খেয়ে স্কুলে যাওয়ার মধ্যেও কোথাও একটা সেই হীনমন্যতা কাজ করতো সারাক্ষণ। মনে হতো বাবা মা এতো কষ্ট করে বড় করছেন, কিন্তু সে তার কোনও প্রতিদান দিতে পারছে না, চেষ্টা করেও। নন্তুর সেইসব চাপ ছিল না, খাতা বেরোনোর পরেও বিন্দাস বিকেলেবেলা ডাকতে চলে আসতো খেলার মাঠে যাওয়ার জন্যে।

এখন বেসরকারি অফিসে চাকরি করা, হাজারটা ঝামেলা, যন্ত্রণা, মীটিং, কর্পোরেট পলিটিক্সের মাঝে যে দুদণ্ড সময় নিজের জন্যে বাঁচে, সেই সময় ভাবতে ইচ্ছে করে, ছোটবেলাটা তার খারাপ ছিল না, বেশ আনন্দেরই ছিল, শুধু ওই প্রতিযোগিতার গরম নিশ্বাসটা এখনও মাঝে মাঝে রাতের ঘুম নিয়ে খেলা করে, খারাপ নাম্বার পাওয়াটা ততটা দুঃখ দেয় না, যতটা দেয় সেইসময়ের মানসিক যন্ত্রণাটা। আজ আপাতসফল জীবনের মাঝেও সেইদিনের ক্ষতগুলো ভুলতে পারে না সে, ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকলে, সে শুধু পড়াশুনা করতো, কোনও প্রতিযোগিতায় না জিতে, জেতার চেষ্টাও না করে।

Kabir immediately picked up the mobile and typed a text message, ‘hope you are safe and nothing happened due to that horrible incident in Kolkata’…then a long pause, holding the send button! He was not sure whether to send the message or not? He broke up with Manasi long four years back and since then they never exchanged any word except once, when he sent a message in Facebook, that also after long 3years of that break up. Nope, that experience was not good though. Kabir wrote a few lines in Facebook messenger and finally after one or two days later, got a very strong reply disguised in instruction that, ‘don’t message me or disturb me’.

Kabir still couldn’t remember what actually happened to him, he knew that he will get such kind of reply but still he tried, he even said sorry too though he still doesn’t have any idea of why he would have to say sorry? He didn’t broke up with Manasi, neither Manasi also broke up with him. There were a few tensions, misunderstandings, family drama and conflict of interest, things didn’t go well and so they ended up with a break up. Break up means they stopped being with each other, spending time together or even stopped being in talking terms. It’s like, suddenly a kind of decision and then forgetting whatever good times they had spent once. Kabir sometime wonder, what kind of relationship was that? Though he was the one who pointed out the negative things of that relationship first, still he never knew that their relationship doesn’t deserve a little bit respect when it is over, even then when he himself didn’t mind to say sorry, number of times.

Anyway, a flyover collapsed on Vivekananda Road. The first thing came in Kabir’s mind was simple, Manasi used to stay near there. She used to take that route while going for her tuition or while returning from there. After fighting a lot with his own conscience, he finally took the mobile and typed a message and was in confusion, whether to send or not. He was really worried but he couldn’t do anything. He couldn’t even ask, or send a text message. Actually he was well aware that he will not get any reply, even if he gets, it would not be a nice one.

When did heart listened to brain? Finally Kabir pressed the send button, “hope nothing happened to you in that mishap. I will be really grateful if you could reply with atleast a letter” and then eternal wait. No reply came in next five minutes, not even in ten minutes. Kabir was in a meeting with his CEO and he was the one who was giving the power-point presentation. People from investors, bankers were very much curious about his presentation. He was also very much in to that, until the reply came, a small vibration in pocket, he took out the phone, Manasi replied, “it is very much annoying to receive a message from you. It will be really helpful if you could stop sending me messages or any other way to communicate with me. I am married and let me be happy in my life”. Kabir read the whole thing, the way Manasi replied was not good in anyway but he was happy. Kabir didn’t ask for any favour, he didn’t even requested Manasi to keep in touch or again fall in love with him. He actually didn’t ask for anything. He was just curious, he was panicked and then he was happy to know nothing happened to Manasi. Kabir himself is a married person, so there was no point getting upset knowing Manasi also got married.

Kabir typed a reply, everybody in the meeting room was looking at him, waiting for him to continue with the presentation, but Kabir was busy with the keyboard of mobile, he typed thrice, deleted twice and finally replied, “Thanks….Be happy” and turned his head towards the presentation.

 

Kabir

31.03.2016

Gurgaon