Archive for the ‘God’ Category

 

Jodi 01

হোটেল উর্বশীর পাশ দিয়ে গলিটা ধরে সোজা গঙ্গায় নেমে যাওয়ার রাস্তা দিন তিনেক আগেই খুঁজে পেয়েছিলাম। একটা বাঙ্গালি আছে, মানে একটা নয়, অনেকই আছে, তবে আমি বলছি বাঙ্গালি চায়ের দোকানের কথা, মধু নাম লোকটার। হৃষীকেশে আসার পরের দিনেই সকালবেলা দেখা। কথা বলতে বলতেই বুঝলাম, মানে সে বুঝল যে আমি বাঙ্গালি। অবশ্য আজ এই পঁয়ষট্টি হবো হবো বয়েসে ভারতের এগারোটা রাজ্যে কাজ করার পরেও আমার সঙ্গে কথা বলার পরে কেউ একটু সুযোগ পেলেই এটা জিজ্ঞেস করতে ছাড়েনি যে, আপনি বাঙ্গালি! আজব ব্যাপার, এতদিন, মানে প্রায় চল্লিশ বছর বাইরে কাটিয়েও আমার কথা শুনে নাকি দিব্য বোঝা যায় এই মালটা আলুপোস্ত ডাল ভাত ছাড়া বোঝে না। অবিশ্যি তাতে আমার খুব একটা কিছু যায় আসে না। তা যা বলছিলাম, তো সেই মধুর দোকানে এক কাপ গরম গঙ্গাজল, যেটাকে ও এখানে চা বলে দিব্য চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা খেয়ে ঘণ্টা খানেক চক্কর মেরে দেখে আসি দেশি বিদেশিগুলো কেমন সব শরীর চর্চা করছে সক্কালসক্কাল। বলতে গেলে এটা আমার ফ্রিতে চৌকিদারি আরকি! ওরাও আমাকে পাত্তা দেয়না, আমিও মোটেই পাত্তা খুঁজি না। উর্বশী হোটেলের পাশের রাস্তাটা আমাকে মধুই বলেছিল। মধু লোকটা বেশ অদ্ভুত। মধ্য বয়েসি লোক, হৃষীকেশে চা বেচছে প্রায় দশ বছর। আস্তে আস্তে এখানেই সব গুছিয়ে নিয়েছে। নিজে থেকেই কথা বলে, নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। এই যেমন আজই সকালে এরকম একটা ঘটনা হল, জানেন কাকা, আজকাল এই বিদেশীদের চক্করে ড্রাগের ব্যেবসা খুব বেড়ে গেছে, আসবে সব যোগের নামে, তারপর এখানে ওখানে ব্যোম ভোলে বলে শুয়ে পরবে এর ওর সাথে, ওদের দেশে তো এইসবই চলে। একদিন সকালে দেখি আমার দোকানের সামনে শুয়ে আছে, গায়ে কাপড় চোপর নেই বল্লেই চলে, কিন্তু বিদেশি, কিছু বলার নেই, হই হই করে ঘুম থেকে তুলে এক কাপ চা খাইয়ে বিদায় করলাম। চা খাবে কি, মুখ দিয়ে তখনও নেশার ঘোর কাটেনি। পুলিশও সব জানে, কিন্তু কারুর কিসসু করার নাই, অতিথি দেবো ভব। আমার চা খাওয়া শেষ হলে, আমিও উঠে পড়ি।

এইবার নিয়ে চার বছর হল, আমি, মানে আমরা প্রত্যেক শীতের সময় এখানে এসে দিন দশেক কাটিয়ে যাই। স্ত্রীটি আমার শীতকাতুরে, সে সক্কাল সক্কাল বেরোতে চায়না, আর আমার আবার সকাল হলে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে ইচ্ছে করেনা। গতবছরে এখানেই একটা হোটেলের সঙ্গে বন্দোবস্ত করে নিয়েছি বছরে দশদিন থাকবো বলে, সে ব্যাটাও বাঙ্গালি, তাই বুড়ো-বুড়ীকে হই হই করে স্বাগতম করে। আর এমনিতেও শীতকালে দিল্লির ঠাণ্ডাতে কাঁপতে থাকা জনতা খুব একটা এদিকে আসে না, খালি খালি থাকে বেশ সব কিছু। আমি সেই সকালবেলা একটা জ্যাকেট, একটা শাল আর একটা লাঠি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি বিদেশীদের কসরত দেখতে। স্বদেশি খুব একটা দেখা যায় না সকালে, বিকেল থেকেই তাদের সময় শুরু হয়, চানাচুর, মাংশ আর রামের বোতল নিয়ে বসে পড়ে ঘরের মধ্যে। আমিও গিলি, কিন্তু আমার আবার রামে ভক্তি কম, তাই সাহেবি বোতল নিয়ে গত ত্রিশ বছরের মত আজও মৌনব্রত নিয়ে বসে বসে টিভি দেখি। আমার স্ত্রী তখন হয় মোবাইলে, নয়তো একটা বই নিয়ে বসে থাকে। সত্যি, এটা একটা মজার ব্যেপার, আমাদের কথা বার্তা মোটামুটি বিয়ের দু-বছরের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিলো, তারপরের তিন বছর চেষ্টা চলেছে কথা খুঁজে বের করার, কিন্তু পাওয়া যায়নি, যেমন আমার নতুন কিছু কথা আসেনি, তারও তেমনই। আমাদের ছেলেপুলেও নেই যে তার সংসারের বেগুন আলু মুলোতে নিজের মাথা লাগাবো, তাই একদম সুন্দরভাবে দুজনে মিলেই একটাই ঘরের ভিতর একসঙ্গে যে যার মতন জীবন কাটাচ্ছি।

মোবাইল ব্যাপারটা আমার ঠিক ধাতে আসে না, আমি বরং কম্পিউটারে বেশ সড়গড়। আমার বউ এর উলটোটা, সে মোটামুটি কাজের লোককেও পারলে মোবাইলে লিখে নির্দেশ দেয়। বাইরের লোকের সঙ্গে কথা কমাতে কমাতে এখন আর তেমন আমাদের খোঁজ খবর রাখারও কেউ নেই, আমরাও আজকাল আর তেমন খোঁজ খবর খুব একটা রাখিনা দেশদুনিয়ার। কোথায় কার বাড়ি লাউএর ঝোল রান্না হয়েছে আর কার ছেলে মেয়ে আমেরিকা গিয়ে বকফুলের বড়া বানিয়ে খেয়েছে বা কার নাতি বেঙ্গলি তে কথা বলতেই পারে না, এইসব শোনার বা শুনে বেশ একটা বিজ্ঞ বিজ্ঞ মন্তব্য করার দরকার পড়ে না। সাতে নেই, পাঁচে নেই, বউ এর সঙ্গেই পঁয়ত্রিশ বছরের বিবাহিত জীবনের মধ্যে গত ত্রিশ বছরে মেরেকেটে ত্রিশটা কথা, যেটা কিনা এখনও মনে আছে, বলেছি কিনা সন্দেহ। চুটিয়ে চাকরি করেছি, প্রচুর জায়গা ঘুরেছি কিছুটা বেড়ানোর তাগিদে, কিছুটা চাকরির জন্যে আর সত্যি বলতে লজ্জা নেই, বাকিটা লোক দেখাতে। হ্যাঁ, মিস্টার মিত্তির চললেন অস্ট্রেলিয়া, তো পরেরবার আমাকেও একটা নিউজিল্যান্ড ভ্রমন করতেই হবে! তবে এইসব করেও বিন্দাস চালিয়ে গেছি জীবন।

ভাল একটা চাকরি ছিল, বেসরকারি কিন্তু ভাল মাইনে। জীবনের প্রথম তিন বছর খুব কম টাকায় চাকরি করেছি, তারপরে সবই বেশ মোটা মাইনের। প্রথমের দিকে জমানোর টাকা থাকতো না, পরের দিকে কিছুদিন জমানোর পরে বুঝলাম এর কোন মানেই হয়না, কিন্তু তাহলেও বেশ কিছু টাকা জমে যেত, তার একটা বড় কারন যদিও আমাদের ছেলেপুলে না থাকা, হাসপাতালের খরচা নেই, পড়ানর খরচা নেই, আবদার মেটানোরও দরকার নেই, তাই বাষট্টি বছরের পরেও যখন দ্বিতীয় বারের জন্যে আমার কন্ট্রাক্ট আরও দুবছর বাড়ানোর কথা উঠল বোর্ডের মীটিঙে, আমি সোজাসুজি না বলে দিলাম। সাদা জামা, কাল প্যান্ট আর চকচকে জুতোর জীবন অনেক হয়েছে, এবার মরার আগে ঢিলে পাজামা আর তার উপরে আরও ঢিলে কুর্তা পরে কটা দিন একটু আরামে কাটাতে চাই। কিন্তু এটারও একটা সমস্যা আছে, একরকমের জীবন ছেড়ে পরেরদিনই অন্য জীবনে ফেরা কিন্তু খুব সহজ হয়না, কিন্তু কপাল ভাল আমার, আমি প্রথমদিন থেকেই একেবারে স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠলাম। তারপর থেকে শীতকালে দশদিনের জন্যে হৃষীকেশ, গরমকালে দশদিনের জন্যে দার্জিলিংটা আমি বা আমরা মোটামুটি ঠিক করেই রেখেছি। বর্ষাকালে আমাদের বিবাহবার্ষিকী, তাই বর্ষাকালে কোথাও যাওয়াটা আমাদের দুজনের একটা মীটিঙের পরে ঠিক হয়। আমার পছন্দ আমার স্ত্রীর পছন্দ হয়না, আবার আমার তাঁর পছন্দ পোষায়না, কিন্তু বেড়ানোর তাগিদে দুজনেই দুজনের অপছন্দটা সহ্য করে এগিয়ে চলি, যেভাবে চলেছি এতটা পথ। এইবার গেছিলাম শ্রীলঙ্কা।

যাইহোক, মধুর দোকানে ফেরা যাক, যেহেতু কম কথা বলে অভ্যেস হয়ে গেছে, আর এদিকে বয়েসটাও বেড়েছে অনেকটাই, তাই একটা কথা লিখতে গেলেই অনেক কথা চলে আসে। মধুই বলেছিল পাশের একটা গলি দেখিয়ে, ওটা দিয়ে গেলে একটা ঢাল পড়বে, আর সেটা দিয়ে নেমে গেলেই নাকি গঙ্গা। গত তিনদিন ধরে এই রাস্তাটাই ফলো করছি। সকালবেলা দারুন ঠাণ্ডা একটা হাওয়া দেয়, মাফলারটা ভাল করে জড়িয়ে সেটা দিয়েই নেমে যাই।

শুক্রবার, সকালের দিকে ভিড় একেবারেই থাকেনা, বিকেলের থেকে অল্প অল্প করে লোক বাড়ে, সবই পরিযায়ী পাখি, তীর্থের নামে মদ গিলতে আসে, আমার মতই ভণ্ডের দল আর এইজন্যেই আমার ভাল লাগে এই হৃষীকেশ। এখানে তীর্থ আছে, রাতেরবেলা বাইজী নাচের কাছাকাছি মোচ্ছব আছে, বেওসা আছে আর খোঁজ করলে বেশ্যাও নিশ্চয় পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। লোকে এখানে যোগা করে, রাতেরবেলা ভোগা করে। সব থেকে ভাল লাগে এটা দেখে যে এইসব কিছুই কেমন একটা ঘোমটার আড়ালে। এখানে তীর্থও হয় অন্যরকমভাবে। মানে যদিও এটা হরিদ্বারের উপরে, কিন্তু তীর্থ-গুরুত্বের মাপকাঠিতে কম, আবার এখান থেকে আরও উপরে উঠে গেলে দেবপ্রয়াগ, তারও উপরে কেদারনাথ, বদ্রিনাথ। অর্থাৎ ঠিক মাঝামাঝি একটা গুরুত্ব নিয়ে সমতল আর পাহাড়ের মাঝামাঝি জায়গায় থেকে যোগা থেকে ভোগা উপহার দিচ্ছে এই জায়গা। এখানে অনেকবছর আগে বিটলস এর লোকেরা এসেছিল আত্মানুসন্ধান করতে, এখানেই সেই বিখ্যাত নীলকণ্ঠমুনির মন্দির, আবার এখানেই প্রত্যেক গঙ্গার ঘাটে লুকিয়ে গাঞ্জা আর শহর থেকে ছুটি নিয়ে সময় কাটাতে আসা তরুন তরুণীর মিলনের জায়গা। এখানে কিছু দোকানে মাছ মাংশ পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকাশ্যে নয়, বলে রাখলে দু-তিন ঘণ্টা পরে পাওয়া যাবে। রামঝুলা আর লক্ষ্মণঝুলার মধ্যে কোনটা বড়, তা নিয়ে তর্কের অবকাশ না থাকলেও কোন যোগে শরীরের কোন জায়গার ঠিক কতটা উপকার হবে, তা নিয়ে প্রচুর লোকের প্রচুর তর্ক প্রত্যেকটা দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে, আর তাদের কথা অনুযায়ী তাদের পদ্ধতিটাই সব থেকে ভাল। আমি অবিশ্যি আমার পদ্ধতিতেই চলি।

আমি যাওয়ার সময় এইসব ভাবতে ভাবতে মধুর দোকানে এক কাপ চা খাই, তারপরে ঠিক একটি ঘণ্টা হাঁটি, মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায়, ফুসফুসটাও কেমন একটা দম পায়, তারপরে ফেরার সময়ে আরেক কাপ চা গিলে আয়েশ করে কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হোটেলে ফিরে আসি। গত কয়েকদিন ধরে বুকের বাঁদিকে একটা চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে, আর বয়েসটা এমনই যে কিছু হলেই মনে হয় কিছু হয়ে যাবে। এমনিতে কিছু হয়ে গেলে তাতে আপত্ত্যি বেশি কিছু নেই, কিন্তু না বলে কিছু হয়ে গেলে নিজেরই হয়ত একটু খারাপ লাগবে।

সে যাই হোক, আজ সকালের দিকে একটা ঘটনা ঘটেছে, আমি ফিরছিলাম ত্রিমূর্তি গুরু দত্ত আশ্রমের পাশ দিয়ে, হঠাৎ করে মনে হল একটা চেনা ছায়া পাশ দিয়ে চলে গেল। তবে চেনা বলা ভুল, অন্তত আজ চল্লিশ বছর পরে তাকে চিনে ফেলার প্রশ্নই আসেনা, কিন্তু কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে যায় যে চমকে উঠতে হয়, আর সেই ঘটনার ঘোর কাটাতে সময় লাগে।

বয়েস বাড়ার পরে একটা জিনিস বুঝতে পারি, জীবনে যা কিছু ঘটে, সব কিছু ঘটতে দেওয়াই ভাল। ভাল জিনিস হয়ত তেমন মনে থাকেনা, কিন্তু দুষ্টুমি, বা যত বাজেকাজ, সব ঠিক মনে থেকে যায়, আর কখনো কখনো নিজের অবচেতনেই নিজেরাই হাসতে পারি, বা হয়ত মনে করে ভাবতে পারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আমার মনে পড়েনা আমি জীবনে কতবার প্রথম হয়েছি স্কুলের পরীক্ষায়, কিন্তু এটা ঠিক মনে আছে যে প্রথমদিনেই আমাকে কান ধরে দাঁড়াতে হয়েছিল।

মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট বয়েসের প্রমান ছাড়া আর কোন কাজে লাগেনি পরবর্তীকালে, কিন্তু সার্টিফিকেট আনার সময়টা মনে আছে, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ভাবছিলাম অন্যস্কুলে ভর্তির ফর্ম তুলবো কারন সমীরণের বান্ধবী আমাদের স্কুলে নয়, ভর্তি হবে নাকি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্কুলে। তারপরে যদিও সে দরকার পরেনি, কারণ সায়নি আমাদের স্কুলেই ভর্তি হয়েছিল আর সমীরণের জীবনের প্রচুর ব্যাথার সঙ্গে আরও একটি ব্যাথা যোগ করে চলে গিয়েছিলো অনেকদুরে, যে দূর থেকে আর কখনও ফেরা যায়না।

টানা তিনমাস সমীরণ আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেনি, যতক্ষণনা তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিতে মালবিকার আবির্ভাব ঘটে। মালবিকার আবির্ভাবের পরে টানা ছয়মাস আমাদেরও দরকার পড়েনি, যতক্ষণনা সায়নি সমীরণকে ছেড়ে সময় কাটাতে শুরু করে সৌম্যের সাথে আর সমীরণ আবার নিজেকে আমাদের দলে সমর্পণ করে। সমীরণের ঠিক কতগুলি প্রেম ঘটেছিল, সেটা ও কলেজের থার্ড ইয়ার থেকেই মোটামুটি ভুলে যেত, তবে তখনই কম করে হাফ ডজনের থেকে কম ছিলনা, আর প্রেম যখন ছিল, তখন ব্যাথাও ছিল, আর ব্যাথাও যখন ছিল, তাই আমাদেরও দরকার ভালমতই ছিল, আর সমীরণ আমাদের এত ভাল বন্ধু ছিল যে তাঁর ব্যাথা মানে আমাদের সাহারা মরুভুমির মধ্যেও মউসিনরামের উদয় ছিল প্রায় দ্বিমাসিক ঘটনা। সমীরণের একটা করে ব্যাথা বাড়বে, আর সেটা ভোলার জন্যে সবার আগে আমাদের জমায়েত হত ছউঘুপির মাঠে, তারপরে প্রচুর সিগারেটের সাথে আমরা সব ফেলু মিত্তিরের মত ঘটনার কারন অনুসন্ধানে ব্যাস্ত হয়ে পরতাম আর সেই সুযোগে সমীরণ আবার অন্য কাউকে তাঁর চোখের জল মোছানোর সঙ্গী বানিয়ে নিত। পরের দিকে আমরা আমাদের এই কাজের নাম দিয়েছিলাম পর-বিবাহ-নর্তকী, মানে নিজেদের যেন বিয়ে হওয়ার নয়, তাই অন্যের বিয়েতেই নেচে আসি, সোজা কথায়, বান্ধবীর খোঁজের দরকার নেই, সমীরণের গণ্ডাখানেক বান্ধবীদের নিয়ে চর্চাতেই ব্যাস্ত ছিলাম।

সেই সমীরণের সাথেই আমার বন্ধুত্বটা শেষ হয়ে গেছিলো ওরই এক সম্পর্কের টানাপড়েনে। কলেজের পড়া শেষ করে আমি তখন সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি, নকশাল আমলের লড়াইতে আমাদের সেভাবে পরতে হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক টানাপড়েন দেখা হয়েগেছে, কংগ্রেসের যুগ শেষ হয়ে লাল সেলামের আমলে আমাদের সব থেকে বড় সঙ্গী ছিল রাজনৈতিক চেতনা, মনে হত, মার্ক্স আর এঙ্গেলের সাথে আমাদেরও দেশে আস্তে আস্তে সমাজবিপ্লবের বন্যা বয়ে যাবে, আমাদের দেশেও প্রত্যেকটা মানুষ খেতে পাবে, রাতে শোয়ার জন্যে পাবে একটা ছাত, আর কোন শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে মরবে না, আর ভিয়েতনামের লোকেরা আমার আপনজন, আমার নিজের ভাইয়ের থেকেও আপন। রাষ্ট্রে ইন্দিরা গান্ধী, কখনও জোট সরকার, বাংলায় স্লোগান তুলতাম, তোমার নাম আমার নাম, আমার দেশ ভিয়েতনাম, বা কখনও, এ স্বাধীনতা ঝুটা হে, কিন্তু এভাবেই আস্তে আস্তে নিজের একটা পরিচিতি তৈরি হয়ে গেছিলো। লোকে জানত আমাকে বামপন্থী হিসেবে। আর বামপন্থার পুরস্কার পেলাম একটা চাকরি। যে কোম্পানিতে চাকরি পেলাম, সেখানেই ছিল সমীরণের দ্বিতীয় প্রেম মালবিকা। রোজই একসাথে যাতায়াত, একসাথে কাজ করার সুবাদে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম মালবিকার সাথে। তবে তখনকার ঘনিষ্ঠতা এখনকার মত চুমু দিয়ে শুরু হত না। ঠিক মনে নেই, কিন্তু চুমুতে পৌঁছতে একবছরের বেশি সময় লেগেছিল। শহরতলীর ছেলে আমি, আর আমাদের বন্ধুত্বের একটা ঘনিষ্ঠ দল ছিল। আমরা ছয়জন ছিলাম খুবই কাছের, আর তাতে অতি অবশ্যই সমীরণ ছিল। বন্ধুদের মধ্যে আমার সম্পর্কের কথা পৌঁছতে দেরি হল না, ছউঘুপির মাঠে সবার সামনে আমাকে আমাদের বন্ধুত্বের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হল, আর কি করে জানিনা সবার মধ্যেই আমাকে নিয়ে, আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠে গেল, আর সেদিন সন্ধ্যেবেলায় যখন আমরা আমাদের সাইকেল নিয়ে উঠলাম, আমি বুঝতে পারলাম, ওরা আর কেউ আমার বন্ধু নয়, আমি আর দরকারি নই তাদের কাছে!

আমিও আর যাইনি বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে তাদের কাছে, মালবিকার সঙ্গে সম্পর্কটা হারিয়ে গেল পারিবারিক টানাপড়েনে। মালবিকার বাবা পাত্র খুঁজে আনলেন আর আমাদের সম্পর্কের পূর্ণতা দাবি করার আগেই বিয়ে হয়ে গেল তার। সেই ঘটনার পরে চল্লিশ বছর কেটে গেছে। আমি চাকরি নিয়ে চলে যাই দিল্লী। তারপরে আস্তে আস্তে পদোন্নতি, নিজেরও বিয়ে। মন থেকে মালবিকা মুছেই গেছিলো, বা মাঝেও খুব একটা কিছু মনেও পড়েনি, সমীরণের হয়তো দ্বিতীয় প্রেম ছিল, কিন্তু আমার প্রথম প্রেম কিন্তু মালবিকাই। তাহলেও আমার এইসব ঠুনকো অনুভবের বড়ই অভাব, তাই যেদিন মালবিকা ছেড়ে চলে গেছে, সেদিন থেকে আমিও আর তার দিকে তাকাইনি, না, সমীরণ বা অন্য কারও কাছেও আবার বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে ফেরত যাইনি। যে পথ চলে গেছে, আমি সেই পথেই চলতে পছন্দ করি।

কিন্তু আজ হঠাৎ কি হল জানি না, সেই সবজে রঙের শাড়িপড়া, কাঁচাপাকা চুলের চেনা ছায়াটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে। আমি আবার সেই রাস্তা ধরলাম, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই ফিরে এসেছি, যে রাস্তা দিয়ে একটু আগেই হয়তো আমার চেনা ছায়া এগিয়ে গেছে উলটোদিকে। মহীপালের রুদ্রাক্ষের দোকানটা পার হতেই চোখে পরে গেল সেই মুখ, সে মুখ ভোলার নয়, চেনা ছায়া সত্যিই আমার চেনা, অন্তত কখনও চেনা ছিল। সঙ্গের ভদ্রলোকটিকে নিয়ে মধুর দোকানে মাটির ভাঁড়ে চা খাচ্ছে। আমাকে এগোতে গেলে তাদের পেরিয়ে যেতে হয়, পিছতে গেলে কেমন একটু অদ্ভুত লাগে, কিন্তু কিছু করার নেই, বয়েসের সাথে নিজের পা’ও কেমন অনিশ্চয়তায় ভুগছে, আমি বোধয় তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকেই, তখনই আমার দিকেই চোখ পড়লো ওর, আর তখনই আমার পায়ে সাড় ফিরে এলো, আমি হঠাৎ কিছু মনে পড়েছে ভাব করে ফেরার রাস্তা নিলাম, ঠিক বুঝতে পারলাম না আমাকে চিনেছে কিনা বা তার চোখে মুখে কিছু ভাবান্তর হল কিনা, বা দূর থেকে ঠাহর করতে পারলামনা কোন দীর্ঘশ্বাস পড়লো কিনা।

 

Debraj

(Pic Courtesy:Google)

27.06.2018

Mumbai

Advertisements

WP 1

One famous person named Ramakrishna once said, many thoughts, and many ways (যত মত, ততো পথ). For everything there is some time of craze. As an example, when I was child, people suddenly started saying that don’t use Dalda, use vegetable oil, like sunflower oil, almond oil etc., and then the craze of Rice bran oil came. And we all started using that thing. After a few years, everyone got feared and started singing the song of Olive oil and just yesterday my wife read somewhere that Olive oil is not good for Indian Type of cooking. My mom always used to say, drink milk, you will gain good health, and now we all know that milk is not that good though. These are things, concepts, theories…comes like waves and then vanishes in no time at all.

In life, these waves can be termed as phases. In childhood, we all play in the ground or at least inside room. Then those heavy bags full of books are forcefully put on our shoulders and we carry those until we get a job or start a business or decide some other professions. I have never been in to a business, so I can’t say what happens to a business man but yes, being an employee for about ten years, now I can say what happened with me or what the phases were. Initially I was a junior, always willing to learn, then slowly I got increments, promotions, in between all these, switched to some other company frequent times. Now too much loaded with higher designations and simultaneously work pressure.

In my last blog, I have written about how did I took part in a Yoga Program and how I myself motivated with help of Yoga to quit cigarettes and alcohol. Now will come to a few more discussions. There are ‘n’ numbers of Yoga Styles and thousands multiplied number of Yoga Gurus. All gurus have invented some kind of techniques or at least modified the traditional things according to the need of people and sometime to make their presentation more followers friendly.

Now let’s analyze what I have learnt in my course. I learnt to be happy all the time knowing that Happiness and Sorrow are complimentary to each other. If one is happy at present doesn’t mean he will not get pain in his life. It is just a matter of fact that after happiness, there must be some kind of setbacks. I learnt a powerful breathing exercise known as Sudarshan Kriya which is a process to control your breathing as breathing is the most important source of energy. I learnt some other kinds of breathing exercises too like Ujjayi Pranayama and then Bhastrika. I was instructed to continue doing that process for the next forty days without any break. The best time for practicing the same is in the morning or anytime in a day preferably in an empty stomach.

After doing five days’ workshop, I really felt good but a bit disappointed too. I got so many questions in my mind which are still unanswered. Ok let me write down those points

  1. Per session I have paid Rs. 400, total Rs. 2000 for a five days’ workshop, which seems a bit expensive. I know we don’t mind buying unhealthy fast food for 500 bucks but before buying rice, we compare between 20kinds of rice and then finally buy the cheapest one, though a 500 buck cost 5kg pack of rice lasts for atleast a month, still considering it a economy program, the subjects were very little. There were more emphasize on how Ravishankar ji talks about things, how holy person he is and what does he suggests in different situations. Yes, I am not saying those are not good, they are really good, inspiring and motivating too but I expected more Yoga and techniques than mere knowledge. We all are full of knowledge and it’s really tough to make space for new things. In that way I was a bit disappointed.
  2. The Home Kriya, means the simplified version of Sudarshan Kriya was taught to us which I find not that good except making it a habit of doing same things repeatedly. Actually it brings discipline in life. May be through regular practice it will be able to channelize my energy through breathing in some day. They say Long Kriya is not to be done on regular basis and must not be at home being alone. They say it must be practiced infront of some teacher and in group. My sincere question is I don’t want to have a guru standing in front of me all the time. I need to be mature and be that teacher who can mentor their disciple to make them mature in minimum time require. Where everything is specific, where you always emphasize on being in present, then why do you keep things to be taught in future. Why not at this present moment.
  3. Why there are so many Gurus and so many Paths. WP 2They are actually too much confusing. They say, Gu means Darkness and Ru means light. Guru is who removes the darkness and bring the light in life. Having a good guru means half job done. But where is Guru? He is not with me directly. He says to be with me through his series of disciples. It seems like there are many many steps to reach near to him. Means one should kept on hoping and spending money on learning things without having any answers to his own questions. He can’t even ask his Guru that, “how do you know all these things?” yes, it’s an important question. How Guru does know everything and then if he knows everything, then what the hell other gurus are doing? Do they also claim to know everything? If yes, then why don’t they appear for a common examination and release their rankings. We will have a choice then. Now it is like being sub-standard people, we are forced believe their holiness. What they claim to be good, we have full rights to know why it is better among all other things claimed to be Good.

Okay, I have so many questions because still I am a person with confused mind, but never mind, like all other things I have done in life, here also, I will try my best to reach the root, even if that involves to read a lot, practice my ass out, I will not mind. Yoga as a whole and to be specific the type of Yoga I have learnt has opened a door in my mind, now it’s my job to explore the rooms inside.

Sougata

Gurgaon

24.08.2015

TSG

I am a person who needs highest level of motivation for anything. Like if I believe alcohol has nothing to do with our human body, even god can’t stop me from drinking. If I think my boss isn’t right, bribing me Kohinoor will also not change the view. I was knowing alcohol and smoking is actually killing me but was not able to quit those. I was not even convinced to go for medication also. I needed a strong motivation. I checked almost every sites telling how to quit smoking but finally failing to do so. I started drinking milk at night just to avoid alcohol but again after two days threw the glass of milk and filled it with alcohol. All negative things around me was engulfing me and slowly all my positive things were converting in to negative things. I used to write poems, paint, read books but slowly I one fine morning I found myself doing none of the above except thinking of beer in the afternoon before lunch and then whiskey in the evening and throughout all these bad thought process burning one by one cigarette to hell.

I was getting a clear picture of my health. I was getting tired after walking half a mile of running quarter a mile. I was not getting any interest in anything. Most of time busy with how to manage time for a cigarette break or finding out reason for celebration with whiskey. Though I was eating a lot, still I was not gaining any weight. Every night I use to stay towards the ceiling hoping after sometime sleep will come. In the morning, with drowsy eyes fighting with another tensed day.

I am a person, who can do anything in the world with help of a bit inspiration and motivation but like I said earlier, I need to go in details of the thing I am doing. One fine morning, I just stopped smoking and took an oath of not drinking any more. I just stopped.

Earlier also I have done this many time. I used to make fun of myself by telling people that quitting smoking is the easiest thing in the world, for example, I have done it a thousand times. Even once for a stretch of almost a week but everytime I made a mistake. I will share this mistake here.

We get motivated by many things, like scolding from teachers/wife, siblings for not smoking. Sometime wife refuses to kiss a cigarette smelling lip, sometime it feels bad to go closer to a non-smoking person too. So we plan to quit smoking and then immediately we declare it our friends, colleagues. The moment we share the good news, they get jealous of you or just to appreciate you, they make fun of you. I have faced this many a times. Sometime appreciation doesn’t help. So just quit it and you are done. Like I said before, I used to smoke atleast 15 cigarettes a day and then suddenly stopped. Before I used to quit smoking for a day and then immediately started Googling the pros and cons of quitting smoking. With all those motivating incidents and words, I used to get enthusiasm and to celebrate that, started smoking again. I was a big frustration for myself, after trying my best also, I was not able to forget it properly.

I told myself. You need to do something that doesn’t support smoking. You need to give a break to your mind. You need to do something that keeps you busy than leaving you a second for smoking. And one more promise I made to myself, no looking back from now.

So, there were three things. First, unhappiness in my family and home, second stress in office which was actually hampering my personal life and third, all those bad habits. I made one thing clear, I will have to fight with these three hurdles. I checked internet all through the days and listed down various options. I am listing down those below

  1. Identify the tension and get rid of it. It confused me a lot. My wife is my tension but I can’t get rid of her. She is part of my life. If I break one hand, is it preferable to get it treated through some near painful process or just cut it off for a later painful life?
  2. Live in the present and forget past and don’t think too much about future: it is a good point. One must live in present forgetting whatever he did and without getting much involved in what he will get in future. Just live the moment and enjoy it fullest. Somehow it’s a great thought. My sincere question was, while I am drinking, I am living in the very present. Does that make me happy? One word came from the above realization that is Happiness. My focus is to get happiness and bet is that it must have to be permanent or at least it must stay for some time.
  3. Exercise, exercise and exercise: yeah, I am fond of exercise. If someone wakes me up every day in the morning and take me for a walk, I don’t have any problem but if someone says put an alarm and do it regularly, then it’s not my cup of tea. Another problem with exercise is consistency. People have a tendency to get bored of exercise very often. Though exercise is one of the best option to get physically and mentally fit, still I was wandering for some other options.

At this point of time, one evening one friend of mine came to my place. He was sharing his experiences about how did he quit smoking. Actually he was a very close friend of mine who used to smoke & drink occasionally. His way of talking really amazed me and I got more interested about the way he did that miracle.

He said, he had joined a religious programme which encourages yoga. Yoga was not a new thing to me. Even I had downloaded a few yoga postures which included Surya Namaskar etc. and started practicing at home with a bit difficulties. Then he started explaining about the programme. He said, it has nothing to do with any kind of religions. No need to have faith on god or have to follow some kind of rituals. It is very simple programme which they call ‘Happiness Programme’. Happiness programme is all about bringing happiness which is kept inside our body and soul. I got enthusiastic about that programme and the very next day spent a good time on internet to know every details of that organization. It was formed by a person named Sri Sri Ravi Shanker. His face or whatever was written in the site didn’t attract me much to be very frank. Being a son of a very religious family I am believed to be an autistic, I have never shown any respect to any kind of God or Godmen in my life and it is not something I have done forcefully or for any reason. Actually depending on anyone is just not in my blood. May be there is something called heaven, where people go after their death, maybe there is some people known as god but their story never attract me. I never bowed down infront of any image or Murti. So religious thing didn’t attract me at all but thought of giving it a try. The whole day I kept on checking their sites. I downloaded a few books on Yoga and Yogic culture. In between that process, I even checked Yoga dresses in some online portal also and ended of buying some electrical junks. That night, I had a very bad sleep. Woke up in the morning with swollen eyes and tired face, drank one full bottle of water and quit smoking, drinking alcohol.

Yes it was that simple. One have to just make his mind and throw up everything.

I joined their class on the very next day. Even before they say anything, I knew I stopped smoking and drinking, so already I was high. I was high on enthusiasm. The schedule was, reach the venue by 6am in the morning and be with them till 9am. My office starts at 9:30am, so the first decision I had to make was to inform office that for the next five days, I will be late every day in the morning and the second was to inform wife that I will not have my breakfast at home and will not take my lunch box for the next five days. It was not easy at all but my positive approach towards that thing woke me up in the morning even before the alarm.

I packed a small bag of formal wears which I planned to wear after Yoga session and then rush for office, one bottle of water, a small hand towel. As instructed I wore a light fitted dress and left home at 5:30 in the morning. It was drizzling outside, a cool breeze was playing with my hair. After very long, my ear got to breathe in fresh air, I was feeling the bliss with all my sense organs.

The first thing we did at the Yoga class was, we got hold of each other’s hands and said “I belong to you”, means it all started with a dedication. A lot of things were taught in the whole class. We learnt a few yoga postures also. Ujjayi Pranayama was one of those. It’s all about controlling your breaths. The most important thing we do all through the day is we breathe. We are alive till we breathe. When we get tempted, it increases and remain very normal while we sleep. The moment it stops, our body converts from live thing to a dead substance.

A few strange questions were asked during the course like when are we happy? When will we be happy? What do we need to be happy?

I stopped eating non-vegetarian foods also. I stopped taking tea and started thinking of yoga whenever possible. It was more of an awakening class than a spiritual class or yoga class. They didn’t show us much yogic poses. They kept ourselves limited with a very few postures only. There was one thing called Sudarshan Kriya where we were taught how to keep control of our breathing. SUdarshan Kriya is a thing, is a kind of breathing exercise where one has to breathe with the sounds of So-ham. So-Ham is said in different ways, first very slowly, means to have control over long breath, then with medium pace and atlast with very fast. One has to keep doing it until it finishes. Once it is over, one must lay on ground and relax their body.

Honestly I never knew how to relax. I used to relax at any comfortable posture, trying hard to forget all other tensions and then fighting with physical uncomfortness and finally giving up being half-rested. They taught me how to control mind, how to channelize one’s thought in to relaxation. How to think of your own body and then slowly relax each body parts.

One another thing I learnt from them is meditation. Every time I heard of meditation, everyone says it’s all about concentration. Throughout years I tried my best to concentrate on sudden things but that never happen. I always ended up being impatient and an utter failure. They told us meditation has nothing to do with concentrations. It’s all about routing things in proper way. At first, one have to expand themselves.

They told us to sit cross legged (Sukhasana), spine erect, eyes closed, palm facing the sky and relaxed shoulders. At first we were said to think of a sphere around us with a radius of 2feet, then the whole room. This way one by one they took us out of the universe and finally told us to think of a place in between our eyebrows, means where the 3rd eye is believed to be. When I was done, I felt myself in heaven. Everything around me was calm, cool. I was not having any anger, sorrw. I was happy. I was happy.

I got a new dimensions through Yoga. Yes, I was in search of it for very long and probably I got it. I got a glow around me, a soulful glow.

Sougata

21.08.2015

Gurgaon

TSG

Yes, we are alive in this beautiful, ugly or whatever it could be termed but in this planet earth.  A few days before, I was going through some very tough situations. Somehow I was killing myself slowly with something or by anything. One fine morning found one of my friend was trying to maintain a distance with me. I noticed it on the very first day but didn’t say anything. The next day I asked him directly and got no answer. I said, I am sorry if I have done something or anything wrong. Trust me it was not intentional. It is not that I could not live without that friend. Actually he is some kind of my colleague cum friend. Who cares about how many friends they come in terms during their job in a specific company? But in this case, as I was disturbed with many things, so I planned to identify things one by one and consider them as issues constraint to my happiness. After some caring try, the problem with my friend got sorted out and he stopped avoiding me.

I was having tough time at home too. My wife returns office late in the afternoon and most of the time much later than I reach. It was never a problem with me but I wanted her to take care of a few things or else alone, I was not able to do everything at home and consider someone to stay always with me like a guest. We have a cook who comes twice a day. She is an elderly lady who comes early in the morning, cooks breakfast and lunch for us and then in the evening for cooking our dinner. Everyday morning, it is me who wakes up early and open the door and then instruct her what to cook. In the evening, if I get a bit late and she leaves, we happily order food from outside. Just to catch our cook, I have to leave office exactly on time which is really troublesome sometime. In India, we are habituated to work on extended hours without any extra pay. There I see my friends are working and I am the one who leaves office exactly on time. Even if I leave on time and find huge traffic at road, still I am late to get hold of my cook. Cleaning of rooms, putting things in proper place, and one by one everything was coming on my head. It happened like if I stop doing things at home, then except watching what my servants are doing at their own choice and wish, I don’t have anything to do at home. Slowly dust, dirt, negative energy was covering my place. For a pair of socks, I would have to check every places, most of the clothes smelly due to frequent rain and elongated time for drying up, cook started putting more oils in food resulting upset stomach most of time and then outburst of such negative energies converted in to anger. I was getting angry for everything at home. I was getting angry with my parents, with my friends and with my wife too. I was being impatient at road while driving and increased my smoking and dragged it to almost double the numbers I used to smoke in last ten years. I started drinking almost every evening. I used to get impatient after reaching home. Without watching TV and watching scattered costly things here and there, I literally had nothing to do except consoling my mind and controlling temper with a glass of whiskey.

In office, I used to get disturbed with anything my boss instructs me to do, I started reading newspapers with more attention but not a single news was getting saved in my mind. After playing cricket for school team, college team and then office team, I was forced to seat in bench in my present company. There was a huge cloud of depression around me and I was not doing anything right.

ImageContinued after Part #01

http://wordpress.com/read/post/id/45794146/380/

After my days in Mission, I went to join a job in Chattisgarh, a province in India. The location was somewhere very far away from even a village town. In that place, there was a small hill and on top of that there was a small temple of Bajrangwali but there was no direct way to reach there. After watching the place for one month, one day morning thought of exploring it from close. I along with a friend got ready for a short trekking trip. After reaching nearby that hill, found a small grass-route and so we started walking through that. Actually there was no proper way to reach on the top and the grass route thorough we were walking, that was also barely visible, almost covered with bushes, somewhere small natural drain. We were scared of snakes also as we saw one on the way. it was big and dark in color but didn’t bother our presence. After reaching on top of the hill, we found a small mud made hut and an orange colored big stone sculptured idol of Bajrangwali. There was one monk and one of his disciples. They were not surprised by seeing us as they noticed us long before and actually waited for us to reach. They offered tea and to which we immediately agreed. Then after tea, we started talking, chatting. I was quite thrilled to see his simple living on top of a small hill along with a jumbo Bajrangwali sculpture.Image After half an hour Babaji (the monk) offered us tobacco, handmade half feet long brown colored country cigarette. He offered Mahua, a pure village made country wine, to which we politely refused. He smiled and said, beta shanti tabhi milta hai, jab yeh daar se bahar ayoge” (peace is only when there is no bindings). He understood we were scared of him and his country made wine, we were even scared of the way down from the hill too. He didn’t force and we didn’t change our mind. After chatting for one long hour with a non-vegetarian, regular drinker and smoker babaji, it felt really very good. We walked back to the point, where we have started in the early afternoon. Whole night I thought of a place, far away from society, where nobody bothers about identity, there in mid of wild animals, poisonous snakes, adverse environmental conditions, one person is living with some very basic things, a shed to cover head from direct rain or sunshine, a very few food to live healthy, some kinds of additional dosages to keep brain involved and one eternal support, i.e. god, there it was Bajrangwali.

Where the mind is without fear and the head is held high

Where knowledge is free

Where the world has not been broken up into fragments

By narrow domestic walls

Where words come out from the depth of truth

Where tireless striving stretches its arms towards perfection

Where the clear stream of reason has not lost its way

Into the dreary desert sand of dead habit

Where the mind is led forward by thee

Into ever-widening thought and action

Into that heaven of freedom, my Father, let my country awake…..Rabindranath Tagore

 

From Chattisgarh, I got transferred to Jammu & Kashmir, another province in India. My site was half an hour drive from my flat. We used to get company vehicle for pick up and drop. I got a good promotion too and so work load got increased a lot. I was not getting any time for nurturing my old hobbies too and so there was no scope to think of god. Just behind my site, it was only two kilometer walking distance to reach the Indo-Pak border and near that border, there was one village named Vijaypur, locally known as Bajpur. In that village, there was a small temple and a huge under construction sculpture of Bajrangwali.Image Being curious one day, during office hours I went inside the temple. It was a very simple temple, where there were a few relics and a big photo of Bajrangwali. Places of worshipping were separate for ladies and gents and most of them maintained proper dress code, i.e. almost white. I didn’t like the place. Everyone was so much desperate to see the god and take blessings from him. In the next six months, I visited the famous Raghunath temple in Jammu, Chichimata temple in Samba and a few babaji places. Actually after disappointing experience of almost all the places there, I lost interest in the search process, and then only, one of my friend suggested to go Vaishno Devi, one of the most famous place in India. One night we started our journey. We were three friends, all actually colleagues. We hired a vehicle for the ease of travelling and reached Katra. From there it’s a 14km trek. It was summer and we started at around 9pm and reached the temple at around 2am at night. We stopped a bit to take a few minutes rest and there we actually saw what it meant by believing in god. People from all over the world, of all ages, from new born babies to few hours before death, everyone, like us, trekked all the way or took help of mule or some kind of human carrying chair. All through the way the kept on chanting Jay Mata Di,Image they forgot about any pain, any gain, rain, sun, cold…everything. It was a heavenly feeling then. We took shower in chilled water with everyone and waited for our turn to come. When our turn was announced, we stood in the queue; we were taken through a long serpentine queue through hall rooms and small temples to reach beside a small cave and a very small door. There were three stones kept openly on some clothes, under some gold made sheds, wet floor and even before taking a complete breathe, we were pushed ahead to make space for the person next to me. it took three hours to reach at the starting point of trek. Though it was downslope but as my friend’s feet were already a lot swollen due to walking that much on that hilly terrain, it took time. in all these three hours, I didn’t utter a single word. I had no problem in believing those three stones as replica of god but somehow my mind didn’t get satisfaction. I didn’t get a call from inside stating peace, happiness, and valuable. It seemed like a good trip ended and that’s it.

I went to various temples around India but somewhere I was missing a link between me and god. I never got a call from god, never felt that urge to remember him, and never understood the necessity of him. In tough days, I concentrated on frustrations or actions than believing and waiting for the help from god. I started meditation at home after dinner at mid of the nights to concentrate on something super power that occurs around me every day but my material eye can’t see. After a few days, turned on slow music to meet mental peace, and then started walking on main road after dinner, a long walk to meet with the nature when there would not be any kind of mental or physical pressure around me, and it helped. I used to walk in village roads, town streets murmuring a simple song or creating poetry or singing then and instant scripted songs and watch poor people who didn’t have proper clothes to wear even in the winters, I started watching cattle who used to make weird sound for mosquito bite, sexual urge or sometime just for making their existence traceable. Beneath the blue starry sky, I kept on walking at night for more than one month before once I was stopped by some gang of people who introduced themselves as army personnel to me and asked for my identity card, which I was not carrying but believed whatever I said to them. They took me in their vehicle, dropped me at my flat and suggested, I mean ordered politely,” the place is not good. It is better to stay inside a closed room than going for an adventure to invite death.” I smiled and from then onwards followed strictly. I had no intention to offer myself to the god. I just wanted happiness, value of life, mental peace and stability.

 

To be continued

ImageNo, I am not an autistic; I am not even a strong believer of god too. Neither I worship god, nor I complain, neither I pray before exam nor I blame if I get bad marks, even while going under the knives of doctors while operating one of my kidney and doctor himself was tensed due to criticality of it, I remained tensed, but kept my face smiling and closed my eyes with lots of hopes., I had a confidence, I knew I had a lot things to do, I couldn’t die, but not for a single time I thought of god, prayed but do I believe in his nonexistence or actually I have some soft corner for him? I am actually not sure of it as I am from a family where everyone is religious, pious and firm believer of the existence of god. Being in such a family also, I never thought of believing in god. During my childhood days, my mom used to tell us, after waking up, a good boy should wish good morning and then a small pray to have a nice day. I used to do this for a period of two years and then found it too boring to continue, so left. Actually as it was never from inside, so after constant two years of daily routine also, it didn’t become my habit.

There was a time when people used to take god’s name to gain friends belief. Like if a guy suddenly finds his eraser missing from his bag and doubts his mate sitting beside and asks, the mate’s reply will be like this, “on god promise, I didn’t take your eraser”. I don’t know what happens now but in our childhood it was just impossible to tell a lie by taking god’s name, with a belief that something very bad would happen immediately. Once I thought of checking the truth of it and so took pencil from my friend’s bag and waited for him to chase me. He came back to his desk and after finding his pencil lost, he asked almost every student of the class but not me, I lost a chance to check the power of god but yes, then I myself planned to do something else. There I planned to promise a thing in the name of god and desperately would fail, did but nothing immediate thing happened with me, not even any kind of curse.

We have a god in Hindu religion named Devi Saraswati, Imagewho is believed to be the goddess of education. Onlky her blessing is believed to be the main reason for doing well in examination to shine in future life. There is an ancient story also about her. World’s stupidest person named Kalidas, who was mocked by everyone around him, king himself threw him out of his territory and that also balding his head, putting cowdung and then make him sit on a flipped donkey. That Kalidas worshipped Devi Saraswati and then became the most intelligent person in the world. His social theories, linguistic skills are epic now. After a long phase of convincing myself, I also thought of taking help of only Devi Saraswati and so bought a small idol of her, kept infront of me, in the middle of my reading desk. I started worshipping her idol every day and sometime even did one-sided talk too. Like, I used to have a short conversation with her stating what I did whole day and what hurt me, what made me feel good etc. I used to get a good feel thinking atleast someone was there who could listen me but that process got bored after a few days, it’s better to have a bloody fight than talking to a deaf and dump idol. After that one month of worshipping, one day morning, I took that idol and kept in the place where mom and dad can take care of her. I was done with that. Asking for some favor is still not my cup of tea.

During my days in Ramakrishna Mission, a famous organization who actually live for people, work for people and make people ready to work for the society and country at large. Days were wonderful there. Every day, we had to wake up in the morning, then group prayer, then anything, either studies, or getting ready for colleges, good food and very calm heavenly atmosphere where people will feel happy and devoted. ImageThere was no person to clean our clothes, none to clean our rooms, bathrooms. Everything was self-help and even though there were more than one thousand tenants like me, still there was ultimate peaceful atmosphere, cool, sober, calm, healthy. After spending almost three months waking up with the clean and green environment clad morning prayer, one fine morning thought of spending a day infront of god without asking anything, doing anything, praying anything, just a day, without food, without water, without anything. I just needed to put the idol in my mind so that like normal people I could also pray, ask for something, put blame on someone. Yes, that was the main reason behind that decision. The moment I understood my intention was to put all the blame on god, I felt bitter, mean and a gulp of cry came through tears, I was alone in the temple, Ma Kali idol looking at me without any blink as it was not real but made of stone, I broke in to tears as I knew, I was confident none was noticing me. I was all alone in the premises. It helped. There was no reason for crying at all, there was no reason for then onwards believing on god too, so I came back to my room and noted down my experience. One thing was clear then, guys should have strong tears gland, it actually helps a lot. I had no problem and so nothing got solved but still it gave me relief.