বদলে গেছো তুমি, আমিও…৯

Posted: May 8, 2016 in Bengali, Caste, Communal, Happiness, Inspiration, life, maoist, NaBloPoMo, nakshal, Peace, Personal, Political, Politics, Social
Tags: , , , ,

ও নিজেই গল্প করে ব্যাবসা চলছে মোটামুটি ভালই, আস্তে আস্তে মার্কেট বাড়ছে, লোকে চিনছে ওর প্রোডাক্ট, ভালো ভালো কমিশন রাখছে সেলারদের জন্যে। শুরু থেকে মানুষ কিছুই শিখে আসে না, তাকে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে জানতে হয়, বুঝতে হয় সব কিছু, তখন পদে পদে তাকে গাইড করার জন্যে লোক থাকে, কখনও বাবা মা, কখনও অন্য বড়রা। আগে একান্নবর্তী পরিবারের যুগে বাচ্চারা খুব ছোটবেলা থেকে কথা বলতে শিখে যেত, এখন ঘর ছোট হয়েছে, বাগান শেষ হয়েছে, বাবা মায়ের ব্যাস্ততার মাঝে অবসর কম, বাচ্চারা শিশু থেকে হটাত বালক হয়, তারপর হটাত করেই একদিন কেমন বড় হয়ে যায়।

কি করছিস ভাই ছাদে দাঁড়িয়ে, তারা গুনছিস নাকি? মস্করা করলো নন্তু। নন্তু অবশ্য এইদশাটা জানে অর্কর। অর্কর এরকম স্বভাব আছে, মাঝে মাঝেই নিজেতে হারিয়ে যায়, কোন অদ্ভুত কিছু নিয়ে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পরে।

নন্তু এক কথা বল, ছোটবেলায় যখন পরীক্ষার খাতা বের হতো বাড়িতে দেখানোর জন্যে, কেমন লাগত তখন?

নন্তু ঘুরল, তাকাল আকাশের দিকে, তারপরে আস্তে করে বলল, ঠিক ওই আকাশের মত, মনে হত খারাপ পরীক্ষা দিয়েছি তো জানতামই, শুধু শুধু বাবা-মা’র কাছে বেইজ্জত করার কি দরকার বাপু!

অর্ক হেসে ফেলল, নন্তু কোন কালেই ভালো নাম্বার পাওয়াদের দলে ছিল না, ওর বাড়ি থেকেও সেরকম কোনও চাপ ছিল না, খারাপ নাম্বার পাওয়ার পরে ওর বাবা-মা কে কখনো মুখ লুকোনোর দরকার পড়েনি, যেমনটা ওর বাড়িতে হতো, খারাপ নাম্বারের থেকেও বড় ছিল পাড়াতেই অন্য আরেকটি মেধাবী ছেলের বেশি নাম্বার পাওয়া, অর্ক চেষ্টা করতো না, তা নয়, কিন্তু সেই ছেলেটা আরও বেশি চেষ্টা করতো, আরও বেশি নাম্বার পেত, ফল হতো এইযে বাবা অফিস থেকে ফেরার পরে কখনও খুব করে ঝাড় পড়তো, কখনও মন খারাপ করে মা একবেলা খাওয়া ছেড়ে দিতেন। এই ফ্রাস্তেসানটা কখনও যায়নি অর্কর। একসাথে বিকেলে খেলতে যাওয়া, তারপরে আবার পরের দিন সকালে এক থালা ভাত খেয়ে স্কুলে যাওয়ার মধ্যেও কোথাও একটা সেই হীনমন্যতা কাজ করতো সারাক্ষণ। মনে হতো বাবা মা এতো কষ্ট করে বড় করছেন, কিন্তু সে তার কোনও প্রতিদান দিতে পারছে না, চেষ্টা করেও। নন্তুর সেইসব চাপ ছিল না, খাতা বেরোনোর পরেও বিন্দাস বিকেলেবেলা ডাকতে চলে আসতো খেলার মাঠে যাওয়ার জন্যে।

এখন বেসরকারি অফিসে চাকরি করা, হাজারটা ঝামেলা, যন্ত্রণা, মীটিং, কর্পোরেট পলিটিক্সের মাঝে যে দুদণ্ড সময় নিজের জন্যে বাঁচে, সেই সময় ভাবতে ইচ্ছে করে, ছোটবেলাটা তার খারাপ ছিল না, বেশ আনন্দেরই ছিল, শুধু ওই প্রতিযোগিতার গরম নিশ্বাসটা এখনও মাঝে মাঝে রাতের ঘুম নিয়ে খেলা করে, খারাপ নাম্বার পাওয়াটা ততটা দুঃখ দেয় না, যতটা দেয় সেইসময়ের মানসিক যন্ত্রণাটা। আজ আপাতসফল জীবনের মাঝেও সেইদিনের ক্ষতগুলো ভুলতে পারে না সে, ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকলে, সে শুধু পড়াশুনা করতো, কোনও প্রতিযোগিতায় না জিতে, জেতার চেষ্টাও না করে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s