বদলে গেছো তুমি, আমিও…৪

Posted: June 18, 2015 in Bengali, birbhum, Community, maoist
Tags: , , , , ,

মালতী টুডু’র তাতে কিছু আসে যায় না। তার বয়েস হল চার কুড়ি। মিশকালো হাতে মোটা দড়ির মত শিরা উপশিরা আর রুক্ষ জমি যেমন ফুটিফাটা হয়ে থাকে, তেমন পা নিয়ে সে এই বয়সেও দৌড়ে বেড়ায় এই বাড়ি থেকে ওই বাড়ি। সে এই গ্রামের ডাক্তার। এখানে শহরের মত ডাক্তার দোকান খুলে বসে না, শহুরে ওষুধও বিক্রি হয় না, আসলে এসে পৌছায়ই না কিছু। মালতীবুড়ী নিজেই পশ্চিমদিকের জঙ্গল থেকে নানান গাছ গাছড়া নিয়ে নিজের বারান্দায় খালি গায়ে বসে বেটে অসুধ বানায়। উড়শ গাছের অসুধ দিয়ে ভাল ব্যাথার অসুধ তৈরি হয়, পেট খারাপ হলে গ্যাদাল পাতার রস খালি পেটে সকাল বেলা। মালতীর তিন কুলে কেউ নেই। ওর কখনও বিয়ে হয়েছিল কিনা কেউ জানে না। ওর বয়সের কেউ আর বেঁচে নেই গ্রামে। জঙ্গলের কচুসেদ্ধ, এর ওর বাড়ির লাউ কুমড়ো এইসব দিয়ে তার একবেলার খাবার হয়ে যায়। একটা ছোট ঘর আর একফালি উঠোন নিয়ে তার সংসার। তার ভোটের পরিচয়পত্র নেই বলে ভোট দিতে যেতে হয় না, তাও ওই যে অল্পসল্প ডাক্তারি করে বেড়ায়, তাই ওকে কেউ খুব একটা ঘাঁটায় না। নিতাইয়ের বউকে ওই মাঝে মাঝে গিয়ে দেখে আসে। দেখে আসে একটা কম বয়েসি মেয়ে কীভাবে নিজের মধ্যে গুমরে গুমরে কাঁদে, তার সঙ্গেই সুখদুঃখের কথা বলে মাঝে মাঝে।

তখন কতই বা বয়েস হবে, মেরেকেটে ষোল, অকল্যান্ড সাহেব যখন গ্রামে এলেন, তখন আর পাঁচটা লোকের মত সেও গেছিল ইংরাজি সাহেবকে দেখতে। সাহেব সব দেখলেন, ইংরাজিতে কি সব জিজ্ঞাসা করলেন ওনার সঙ্গে আসা লোকজনকে, তারপর চলে গেলেন। সেদিনই বিকেলে বিতানকে যেতে হয়েছিলো সাহেবের বাড়িতে। আসলে তাদের গ্রামে একটা রাজনীতির দল আছে, তারা সব কাজেই একটু মাতব্বরি করতে চায়, কিন্তু তাদের সঙ্গে থাকলে পুলিশ কিছু বলেনা, গ্রামের লোকও একটু পাত্তা দেয়, নিজেকে বেশ একটা বড়োলোক বড়োলোক লাগে। বিতানের ভাল লাগে না ওর দাদার সঙ্গে বাড়ি তৈরির যোগাড়ের কাজ করতে। কিছুদিন গেছিলো সে, কিন্তু সে বড় খাটুনির কাজ। সকালবেলা পান্তা খেয়ে বেরোনো, সারাদিন রোদ মাথায় করে কাজ করে দুপুরের পরে বাড়ি ফিরে খেয়ে দেয়ে ঘুমনো। এটা তার কাজ নয়। সে পাঁচ ক্লাস অব্দি পরেছে, এর বেশি পড়ার জায়গা নেই তাদের গ্রামে। এর উপরে পড়তে হলে তিন ক্রোশ দূরে যেতে হয়, আক্রা নদী পেরিয়ে। আর পড়াশুনা করেই বা কি হবে? কে তাকে চাকরি দেবে? গ্রামের লোকের খাবার পয়সা নেই আর তাকে কিনা দেবে চাকরি! এমনিতে সে বেশ একটু ষণ্ডাগণ্ডা চেহারার, খাই ও বেশি। ওর দাদা সেটা নিয়েও কথা শোনাতে ছাড়ে না। বউদি ভাল, সে মাঝে মাঝে কুমড়োর ঝোলে ছোলা দেয়, আর দেয় নারকোলের টুকরো। এই রাজনীতির দলের সঙ্গে ঘুরে আজকাল তার নিজেরও একটা পরিচিতি হয়েছে, লোকে তাকে চেনে। ভোটের সময় দুপুরবেলা বিরিয়ানি খেতে দেয়, প্যাকেটে করে। বাপ রে, কি গন্ধ তার, একবার খেলেই মনে হয় ভিতরটা জুড়িয়ে গেলো, সে তো পরাণদা’রটাও অর্ধেক খেয়ে নিয়েছিলো।

চলবে…

Advertisements
Comments
  1. Sharmishtha says:

    where is next post?

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s