বদলে গেছো তুমি, আমিও…২

Posted: June 16, 2015 in Bengali, birbhum, Community, life
Tags: , , , ,

আক্রা নদীটাতে একটা সময় জল থাকতো, মেসাঞ্জরে বাঁধ দেওয়ার পর থেকে এখানে এখন আর তেমন জল থাকে না। একশ দিনের যে কাজ পাওয়া যায় সরকারি প্রকল্পে, সেই টাকা দিয়ে একটা পরিকল্পনার চেষ্টা হয়েছিলো, কিন্তু সে পরিকল্পনা ঠিকঠাক এগোনোর আগেই আবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।  জল ধরো, জল ভরো প্রকল্প শুরু হয়েছিলো একটা, তাতে ওই একশদিনের কাজের মধ্যে বেশ কিছু পুকুর কাটার কাজ করতে হত, গ্রামের ছেলে মেয়ে বউরা সবাই সেখানে কাজ করতো, কিন্তু সেখানে বৃষ্টির জলও বেশিদিন টেকে না, আসলে ভোট পাওয়ার রাজনীতিতে লোককে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতো ঠিকই, কিন্তু ভূগর্ভের জলস্তর না মেলাতে পারলে জল টেকে না। এই আক্রা নদীই তাই ভরসা, ভাল্কা, সিজুয়া হয়ে রাখারির কাছে আবার ময়ূরাক্ষীর সাথে মিশেছে এই আক্রা নদী। বর্ষাকালে জল থাকে, তা দিয়েই অল্পসল্প চাষআবাদ হয় বক্রপুরে। আক্রা নদীর পাশেই একটা বটগাছ আছে, অনেক পুরনো, সেখানে রক্ষাকালীর মন্দির আছে, আর সেই মন্দির থেকে একটু দূরে, ওই নদীর চরেই আছে একটা মসজিদ। বর্ষাকালে ওই মসজিদে কখনও জল উঠে আসে, লোকেরা বলে আল্লা ওজু করার পানি পাঠিয়েছেন, রক্ষাকালীর মন্দিরে সাপ ঘুরে বেড়ায় তখন, লোকে বলে ভোলেবাবার চ্যালা। সেই মাটির রাস্তা ধরে, লালমাটির রাস্তা ধরে আরও একটু এগোনোর পরে আসে শুখাবাজার। শুখাবাজারে বেস্পতিবারে হাট বসতো একটা সময়, আজকাল জঙ্গলমহল নিয়ে চীৎকার আর সরকারী চেঁচামেচিতে সে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের লোকেরাই দোকান খুলে বসে, আর গ্রামের লোকেরাই সেটা কেনে। আক্রানদীতে মাঝে মাঝে মাছ পাওয়া যায়, গ্রামের বুয়া, সতু রামু গরাইরা কেনে সেইসব আর বিকেল হলে ঘরে পিদিম জ্বেলে অপেক্ষা করে কখন আবার দিন হবে।

বক্রপুর গ্রামেরই একটা কোণের দিকে থাকে নিতাই টুডু আর ওর বউ। গেল বছর যখন রাতেরবেলা ময়ূরাক্ষীতে জল বাড়ল, মসজিদটা হেলে গেল একদিকে, গ্রামের বাচ্চা আর বুড়োরা মিলে ভিড় করল স্কুলের চাতালে, সেদিন ওর পোয়াতি বউটা বাচ্চা দিয়েছিল। কিন্তু সেই বাচ্চাটা সকাল বেলা অব্দি বেঁচে থেকে জল নেমে যাওয়াটা আর দেখতে পায়নি। তারপর থেকে ওর বউ কেমন একটা হয়ে গেছে। কখনও চীৎকার করে কাঁদে, কখনও আলুথালু শাড়ি পড়ে পুকুরের দিকে দৌড়ে যায়। নিতাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে, সে কখনও মুর্শিদাবাদে কাজ করতে যায়, বা কখনও ভাল খদ্দের পেলে মায় বোম্বে অব্দি যায়। তখন ওর বউয়ের দেখাশুনা করে পাশেরই পান্তাখুড়ি। ওনার এরকম একটা নাম কে রেখেছিলো, কেউ জানে না। বক্রপুর গ্রামে জানার চেষ্টা বড়ই কম, ঘটনা ঘতে না এখানে, শুধু মাঝে মাঝে মাওবাদী না নকশাল ধরতে ঝাঁকে ঝাঁকে পুলিশের গাড়ী আসে, অচেনা কাউকে দেখলেই তুলে নিয়ে যায়। কখনও সে ফিরে আসে, কখনও আর কেউ ফেরে না। গ্রামও আস্তে আস্তে ভুলে যায় তার কথা।

চলবে

Advertisements
Comments
  1. Sharmishtha says:

    fantastic writing! gram aar shaharer ei tofat aar kobe ghuchbe bhagaban janen aar amader netara!

    sharmishtha
    http://banglakathaoblog.wordpress.com

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s